চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : অর্থ আত্মসাৎ সহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলাধীন বেতিল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ আখতারুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সাথে সহকারী প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চৌহালী উপজেলার শীর্ষ বিদ্যাপীঠ বেতিল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ পদে আখতারুজ্জামান যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি সহ সেচ্ছাচারীতার সঙ্গে যুক্ত হয়। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজের খরচের নামে ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে নানা সময়ে বিপুল অংকের টাকা আত্মসাৎ করেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে তার অশোভনীয় আচারণ এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ম্যানেজিং কমিটি। পরে বিধি মোতাবেক প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশনে ৫ সদস্য বিশিষ্ট অডিট কমিটি গঠন করে গর্ভনিংবডি। ২৩ থেকে ২৬ মে অডিট কার্যক্রম চলে।

এতে অধ্যক্ষ আখতারুজ্জামান বিদ্যালয় থেকে ২০,১১,৪১২ টাকা ও কলেজ শিক্ষকদের বেতন বাবদ ১,৩১,৫০০ টাকা আত্মসাতের প্রমান মেলে। অডিট কমিটির আহবায়ক ও প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, তদন্তে অর্থ আত্মসাতের প্রমান মিলেছে।

এদিকে ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে অভিযুক্তকে ৩ বার চিঠি ইস্যূ সহ তার সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কর্ণপাত করেনি এবং চিঠির কোন উত্তর দেয়নি। পরে বিধি মোতাবেক বুধবার ম্যানেজিং কমিটির সভায় সকলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক অধ্যক্ষ আখতারুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বেতিল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব শেখ আবদুস ছালাম বলেন, অর্থ আত্মসাৎ করে অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানের সমস্ত চাবি নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। এতে করোনাকালী অনলাইন ক্লাস সহ দাপ্তরিক কার্যক্রম বিঘ্ন ঘটছে।

তদন্তে দুর্নীতি প্রমানিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয়।

এ ছাড়া অফিস কক্ষের চাবিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়।

তবে অধ্যক্ষ আখতারুজ্জামান বলেন, সাময়িক বরখাস্তের বিয়য়ে শুনেছি। কিন্তু আমি ১ টাকার অনিয়ম বা দুর্নীতি করিনি। আমি নতুন করে তদন্ত চাইবো।

এ ব্যাপারে জানতে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফসানা ইয়াসমিন জানান, অভিযোগের বিষয়ে মৌখিকভাবে জেনেছি। সাময়িক বরখাস্তের কপি এখন হাতে পায়নি কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পেরেছি।