আরফাত বিপ্লব, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : উম্মুল মাদারেছ বা মাদ্রাসাসমূহের মা খ্যাত চুনতী হাকিমিয়া কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসায় আলিয়া ও কওমি অঙ্গনের শীর্ষস্থানিয় আলেমদের নিয়ে এক বণ্যার্ঢ্য মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ নিয়ে এতদঅঞ্চলে আলেমা ওলামাদের মাঝে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অনুষ্ঠান নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

কেউ কেউ লিখেছেন, সরকারী আলিয়া মাদ্রাসায় কওমি অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের আগমনে ঐক্যের যে শুভসূচনা হলো তা এগিয়ে নিতে পারলে আগামীতে ইসলামপন্থীদের বাদ দিয়ে দেশে কিছু হবে না। এর সুফল ভোগ করতে পারবে মুসলিম উম্মাহ।

শনিবার আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশন ও চুনতী মাদ্রাসা আনজুমানে তোলাবায়ে সাবেকীন (প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ) এর সহযোগিতায় সম্প্রসারিত মসজিদে আসমাউল হুসনা’র উদ্বোধন, বুখারী ও মুসলিম শরীফের সবকদান, আল্লামা ফজলুল্লাহ (রাহ.)’র জীবনীগ্রন্থসহ কয়েকটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী, কামিল সম্মিলিত মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরতদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান একপর্যায়ে আলিয়া ও কওাম আলেমেদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের জাতীয় সংসদ সদস প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী ।

এমপি নদভীর ছোটভাই ও মাদ্রাসা গভর্ণিং বডির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল আ’লা মুহাম্মদ হোছামুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিখ্যাত কওমি মাদ্রাসা জামেয়া দারুল মা’আরিফ আল-ইসলামিয়া এর প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক আল্লামা সুলতান যাওক নদভী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক) এর মহাপরিচালক মাওলানা ওবায়দুর রহমান খান নদভী, রাহবারে বায়তুশ শরফ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল হাই নদভী, আইআইইউসি ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী দীন মোহাম্মদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রফেসর ড. আ.ক.ম আব্দুল কাদের, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, চুনতী হাকিমিয়া কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হক, সাবেক উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আজিজুল হক, ড. মাওলানা মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এনামুল হক।

বিদেশে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এর সাবেক প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. আবু বকর রফীক আহমদের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অধ্যাপক ড. আবুল আলা মুহাম্মদ হোছামুদ্দিন।

সম্মানিত অতিথি ছিলেন জামেয়া দারুল মা’আরিফের সহকারী মহাপরিচালক মাওলানা ফোরকান উল্লাহ খলিল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইদ্রিছ, লোহাগাড়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইব্রাহিম কবির, সাতকানিয়ার পৌর মেয়র মোহাম্মদ জোবায়ের, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য এরফানুল করিম চৌধুরী, চুনতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জনু, আধুনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নাজিম উদ্দীন, মাদার্শা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ.ন.ম সেলিম, অধ্যাপক মাওলানা সিরাজুল আরেফীন ছিদ্দিকী, কাজী মাওলানা নাসির উদ্দিন, শিল্পপতি আলহাজ্ব আবদুশ শুকুর প্রমুখ। এছাড়া এতদ অঞ্চলের প্রায় সবকটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চুনতী হাকিমিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ফারুক হোসাইন ও আনজুমনে তোলবায়ে সাবেকীনের সভাপতি মাওলানা মমতাজুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাওলানা জিয়াউল করিম।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ভারত উপমহাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের মধ্যে অন্যতম আল্লামা আবুল বারাকাত মুহাম্মদ ফজলুল্লাহ (রাহ.) ছিলেন বহুমাত্রিকতার সংমিশ্রণে একজন ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ। তিনি একাধারে মুহাদ্দিস, মুফাসসির, মুফতি, ইসলামী চিন্তাবিদ, উর্দু, আরবী, ফার্সি ও বাংলা ভাষার শায়ের (কবি), সাহিত্যিক, লেখক ও অনুবাদক। তিনি কিংবদন্তি মুসলিম মনীষী হযরত আল্লামা খলিল আহমদ সাহরনপুরি (রাহ.) এর ছাত্র এবং হাকিমুল উম্মত হযরত আল্লামা আশরাফ আলী থানভী (রাহ.) এর ‘মুরিদে খাছ’ ছিলেন। অত্যন্ত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও যুগশ্রেষ্ঠ এই আলেমেদ্বীন ছিলেন ঐক্যের প্রতীক এবং নেতৃত্ব ও সেবার প্রেরণা। এ মনীষীর সান্নিধ্যে এসে যে কেহই মুগ্ধ না হয়ে পারতেন না। তিনি তাঁর সময়ের চেয়ে অনেক বেশি আধুনিক ছিলেন।