খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : সন্ত্রাসবাদীদের হাতে অপহৃত হয়েছেন দুই চীনা নাগরিক। তারা সেখানে এক খনি কোম্পানিতে কাজ করতেন।

নাইজারে একটি খনি কোম্পানিতে কাজ করতেন দুই চীনা নাগরিক। মূলত সোনা এবং ইউরেনিয়াম খোঁজার দায়িত্বে ছিলেন তারা। শনিবার রাতে মালি, নাইজার এবং বুরকিনা ফাসোর সীমান্ত অঞ্চল থেকে অপহরণ করা হয় তাদের।

কারা অপহরণ করেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নাইজারের ওই অঞ্চলের গভর্নর সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে একাধিক সন্ত্রাসী দল সক্রিয়। আইএস, আল কায়দা এবং বোকো হারামের সদস্যরা ওই অঞ্চলে বসবাস করে। বিভিন্ন সময় তারা নানা অঘটন ঘটায়। এই অপহরণের ঘটনাতেও এরকমই কোনো দলের হাত আছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে কেন ওই দুই চীনা খনি কর্মীকে অপহরণ করা হলো, তা স্পষ্ট নয়। ওই অঞ্চলে যে তাদের প্রাণসংশয় আছে, আগেই তা জানানো হয়েছিল। সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই সোনা এবং ইউরেনিয়ামের খোঁজ চালাচ্ছিলেন তারা। সম্ভবত সেই কারণেই তাদের অপহরণ করা হয়েছে বলে মনে করা হয়েছে।

নাইজার, মালি এবং বুরকিনা ফাসোর ওই সীমান্ত অঞ্চলে সোনার মজুত আছে। ইউরেনিয়ামও আছে। এ ছাড়াও তেল এবং অন্য খনিজ সম্পদের বিপুল সম্ভার আছে।

চীন দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে সক্রিয়। একাধিক খনি আছে তাদের। এই অঞ্চল থেকে কোবাল্টও সংগ্রহ করে তারা। পাশাপাশি আকরিক লোহাও সংগ্রহ করা হয়। চীনের বিপুল ইলেকট্রনিক বাজারের জন্য এখান থেকেই কাঁচামাল সংগ্রহ করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চীনকে খনিজ সম্পদ সংগ্রহে বাধা দিতেই এ কাজ করেছে কোনো একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। এর আগে ২০০৭ সালে চীনের এক খনি কর্মীকে অপহরণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এবার অবশ্য, কোনো সংগঠনই অপহরণের কথা স্বীকার করেনি। নাইজার সরকার বিষয়টি দেখছে বলে স্থানীয় গভর্নর জানিয়েছেন।