সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (ইনসেটে রোগী আল আমীন)। ছবি: প্রতিনিধি

সোহরাব হোসেন, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) : সংবাদপত্রের হকার মো. শহীদুল্লাহ তার অসুস্থ ছেলেকে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পায়নি সুচিকিৎসা। ৩ দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর চিকিৎসা না পেয়ে অবশেষে প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করতে বাধ্য হন। চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে ডাক্তার ও নার্সদের দায়িত্বে অবহেলার শিকার রোগীর বাবা বুধবার (৫ জানুয়ারি) সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগকারী মো. শহীদুল্লাহ সিংগাইর পৌর এলাকার ঘোনাপাড়া মহল্লার মৃত জোসন আলীর পুত্র।

অভিযোগে প্রকাশ শহীদুল্লাহ তার অসুস্থ ছেলে আল আমীনের ঘন-ঘন বমি ও তীব্র পেট ব্যথা হওয়ায় গত ১৭ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এরপর তাকে ইনজেশন পুশ ও স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়। কোনো টেস্ট না করেই কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্স জানায়, আল আমীনের পেটে অতিরিক্ত গ্যাস হয়েছে যার জন্য এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে।

হাসপাতালের বেডে থাকাকালে রোগীর অবস্থার আরো অবনতি হতে থাকে। ডাক্তার ও নার্সদের সুচিকিৎসা, সেবা ও অবহেলার কারণে বাধ্য হয়ে শহীদুল্লাহ তার ছেলেকে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম করান। সেখানকার রিপোর্ট অনুযায়ী রোগীর অ্যাপেনডিসাইটিস ধরা পড়ে।

পরে দ্রুত মানিকগঞ্জ জেলা সদরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করে অপারেশন করা হয়। জানা যায়, অ্যাপেনডিকস এর রগ ফেটে যাওয়াতে রোগী ঝুঁকির মধ্যে ছিল।

শহীদুল্লাহর অভিযোগ, বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থায় উপজেলা পর্যায়ে এ রকম একটি হাসপাতালে আমার অসুস্থ ছেলের সুচিকিৎসা না পাওয়ায় কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সরাই দায়ী। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।

এ ব্যাপারে নার্সিং সুপারভাইজার মনোয়ারা খাতুনের কাছে ওই সময় দায়িত্বপালনকারী নার্সদের নাম জানতে চাইলে তিনি নাম জানাতে অস্বীকৃতি জানান। আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারহানা নবীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি অফিস টাইমের বাইরে এ প্রতিবেদকের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারহানা কবির বলেন, আমার এ বিষয়ে মন্তব্য করার কিছু নেই। সিভিল সার্জন বরাবর যেহেতু অভিযোগ করেছে, নিশ্চয়ই তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিবেন। ডাক্তার নার্সের কোনো গাফলতি থাকলে সেটা ওই কমিটি দেখবে।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. লুৎফর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, আমরা একটা তদন্ত কমিটি করে দেব। তারা বিষয়টি দেখবেন।