মহিউদ্দিন রানা, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে রাজিবপুর ইউনিয়নে ভিজিডি কর্মসূচির ১২৬ কার্ডধারী ২১ মাসের চাল না পাওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলী ফকিরের বিরুদ্ধে ঝাড়ু-জুতা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বঞ্চিতরা।

রোববার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে চাল বঞ্চিতরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে মিছিলটি শাহগঞ্জ বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ফের রাজিবপুর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে শেষ হয়।

জানা যায়, ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট বা দুস্থ মহিলা উন্নয়ন (ভিজিডি) কর্মসূচির আওতায় ২০২১-২২ অর্থ বছরে অনলাইনে আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নে ৩১৫ জন নারীর নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক কার্ডধারী প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা। অথচ উল্লেখিত তালিকার ১২৬ জন উপকারভোগী ২১ মাসের চাল পায়নি।

এ অবস্থায় ওই ইউনিয়নের সুবিধা বঞ্চিত কার্ডধারীরা ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা গত বছরের ১৪ নভেম্বর জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এএসএম সানোয়ার রাসেলকে আহ্বায়ক, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জনস্বাস্থ্য আবুল কায়সার তালুকদার ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ্জহুরাকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। গত ২০ নভেম্বর তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্ত শুরু করেন। তদন্তে ৭৯ জন সুবিধাভোগী ২১ মাসের চাল না পাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ ছাড়াও ৪৭ জন কার্ডধারীর কোন হদিস খুঁজে পায়নি তদন্ত কমিটি। ৭ ডিসেম্বর তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা ভিজিডি’র সভাপতি ইউএনও এর নিকট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে এ ঘটনায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান একেএম মোদাব্বিরুল ইসলামকে দায়ী করেন ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল আলী ফকির এর দায় এড়াতে পারে না বলে উল্লেখ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনের একমাস পেরিয়ে গেলেও সুবিধাবঞ্চিতরা তাদের প্রাপ্য চাল না পাওয়ায় রোববার বিকেলে এ বিক্ষোভ মিছিল করেন।

এ বিষয়ে রাজিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল আলী ফকির বলেন, ‘নির্বাচনে পরাজিত হয়ে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ক’জন চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে যেতে শুরু থেকেই আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। এতেও যখন কাজ হচ্ছে না, আমার ইউনিয়নের সহজ-সরল মানুষদের আমার পেছনে লেলিয়ে দিয়েছে’।

তিনি আরো বলেন, ‘নয় মাস হলো চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছি। তাহলে ২১ মাসের চালের হিসেব আমি কিভাবে দিব? আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর এপ্রিল মাস থেকে চাল দেওয়া শুরু হয়েছে। যাঁরা কার্ড নিয়ে আসছে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে সবাইকে চাল দিয়েছি’।

এ বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএন) মোসা. হাফিজা জেসমিন জানান, তদন্ত প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসকের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।