সেলিম রানা, চরফ্যাশন প্রতিনিধি : চরফ্যাশনে ট্রলার ডুবির ঘটনায় তিনদিনে অতিবাহিত হলেও সন্ধান মেলেনি ৮ জেলের। এতে জেলে পরিবারগুলোতে চলছে শোকের আহাজারি। ট্রলার দুর্ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন কারও বাবা, কারও সন্তান, কারও বা স্বামী। পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তিকে না পেয়ে শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন পরিবার গুলোর সদস্যরা। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে দক্ষিণ আইচা থানার চরমানিকা ইউনিয়ন ও শশীভূষণ থানার রসুলপুর ইউনিয়ন।

বৈরি আবহাওয়ায় উপকূলে গভীর বঙ্গপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে।

এ সময় অন্যান্য ট্রলারের মাধ্যমে ৫ জেলে উদ্ধার হয়েছে, এখনও ৮ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর সংলগ্ন বঙ্গপসাগরের ২৫/৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে ও ঢালচর সংলগ্ন বঙ্গপসাগরে ১৩ জেলে নিয়ে চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার চরমানিকা ইউনিয়নে ইউসুফ মাঝির ট্রলার ডুবে যায় l

নিখোঁজ ৮ জেলেরা হলেন- দক্ষিণ আইচা থানার চরমানিকা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের,আবু পাটোয়ারীর ছেলে মোঃ রাছেল (২৮) ২ নং ওয়ার্ডের, মোকলেছুর রহমানের ছেলে মোঃ তছলিম (৩০), ৬ নং ওয়ার্ডের মোঃ জাফরের ছেলে মোঃ ইসমাইল (৩১), ৮নং ওয়ার্ডের, আঃ মন্নান আখনের ছেলে আঃ রহমান আখন (৪০) ও নাছির মাঝীর ছেলে আঃ মন্নান (৩৪), শশীভূষণ থানা রসুলপুর ইউনিয়ন ৫ নং ওয়ার্ডের সুলতান আহমেদ মল্লিকের ছেলে নাজু (৫০) ও মোঃ আক্কেল আলী বেপারীর ছেলে মোঃ ছাদেক (৪২) ৯নং ওয়ার্ডের (আট কপাটের) আবু হাওলাদারের ছেলে মোঃ জুয়েল (২৯) এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
এ সময় নদীতে থাকা অন্যান্য ট্রলারের জেলেরা

৫ জনকে উদ্ধার করতে পারলে ও এখন ৮ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডসহ প্রশাসনের অন্যান্য সংস্থাগুলো কাজ করছে বলে জানান যায়।

ডুবে যাওয়া ট্রলারের মালিক ইউসুফ মাঝির শ্যালক ছালাউদ্দিন কাজী জানান, বৈরি আবহাওয়ায় সাগরে প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে গত মঙ্গলবার (৯ আগস্ট ) সকালে পায়রা বন্দর সংলগ্ন বঙ্গপসাগরের গভীরে ১৩ জেলেসহ ইউসুফ মাঝির মাছধরার ট্রলারটি ডুবে যায়।

এ সময় ইউসুফ মাঝিসহ ৫ জেলে উদ্ধার হলে ও ৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া জেলেরা পটুয়াখালী জেলার মহিপুর থানার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিয়ে নিজ এলাকায় ফিরে আসেন । ট্রলারে থাকা জেলেরা প্রত্যেকেই চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানা ও শশীভূষণ থানার এলাকার বাসিন্দা।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল নোমান রাহুল জানান, নিখোঁজদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড ও স্থানীয়রা যৌথভাবে কাজ করছে। তবে বৈরি আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তিনি।