সেলিম রানা, চরফ্যাশন প্রতিনিধি : ভোলার চরফ্যাশনে সাঁকো থেকে মোরগখালী খালে পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর নিশাদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় নিশাদের সহপাঠী ইয়াছিন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

বুধবার দুপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মোরগখালী খালের উপর বাড়ি সংলগ্ন সাঁকো থেকে পড়ে এই দূর্ঘটনা ঘটেছে।

এই দূর্ঘটনায় নিখোঁজ ইয়াছিনকে খুঁজে পেতে উদ্ধার তৎপরতায় আছে চরফ্যাশন স্টেশনের ফায়ারসার্ভিসের কর্মীরাসহ গ্রামবাসী।

নিহত নিশাদ ওমরাবাজ গ্রামের আবু জাহারের ছেলে এবং নিখোঁজ ইয়াছিন একই গ্রামের পাশের বাড়ির জামাল উদ্দিনের ছেলে। তারা দুইজনই ওমরাবাজ গ্রামের পশ্চিম ওমরাবাজ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। আকষ্মিক এই দূর্ঘটনায় এক শিশু শিক্ষার্থীর করুণ মৃত্যু এবং অপর শিক্ষার্থীর নিখোজের ঘটনায় গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমেছে।

পশ্চিম ওমরাবাজ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অহিদুর রহমান জানান, দুই শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফেরেনি। শিশুরা বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন এবং প্রথম শিফট ছুটির পর শিশুরা বাড়ি চলে গেছেন বলে নিশ্চিত হয়ে অভিভাবকরা আবার বাড়ি ফিরে যান।

তখন পর্যন্ত শিশুরা বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন অভিভবাকরা শিশুদের এ-দিক সে-দিক খোঁজাখুজি শুরু করেন।

খোঁজাখুজির এই পর্যায়ে বাড়ি সংলগ্ন খালের উপর নির্মিত সাঁকোর একপ্রান্তে শিশুদের জুতা পাওয়া যায়। সাঁকোর গোড়ায় জুতার সূত্র ধরে খালের মধ্যে শিশুদের অনুসন্ধান শুরু হয়।

খবর দেয়া হয় চরফ্যাসশন ফায়ারসার্ভিস স্টেশনে। চরফ্যাশন ফায়ারসার্ভিস স্টেশনের, স্টেশন অফিসার আসাদু জ্জামান লিখন জানান, ফায়ারসার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে নিখোঁজের সম্ভাব্যস্থান মোরগখালী খালের উপর সাঁকোসংলগ্ন এলাকায় অনুসন্ধান শুরু করেন এবং সাঁকোর কয়েক গজের মধ্যেই নিশাদের মরদেহ উদ্ধার করে। এখনো ইয়াছিনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ফায়ারসার্ভিসকর্মী এবং গ্রামবাসীরা ইয়াছিনের সন্ধানে খালজুড়ে সন্ধান অব্যহত রেখেছেন। ঘটনাস্থলে শশীভূষণ থানা পুলিশের একটি টিম অবস্থান নিয়েছে।