রবিউল হাসান রবি, চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিলেন মোট ৬ জন। তাদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী মো. আজিমসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতরা সবাই ছাত্রলীগ কর্মী বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নের সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব৷ অভিযুক্ত তিন ছাত্রকে আগামীকালের মধ্যে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিরীণ আখতার৷

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম বার্ষিক সিনেট সভায় উপাচার্য এ ঘোষণা দেন তিনি৷

গত এক বছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ জন ছাত্রী হেনস্থার শিকার হয়েছেন৷ এর আগের ঘটনাগুলোতে একজনও গ্রেপ্তার হয়নি৷ এবার এক ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারনের চেষ্টার পর আন্দোলনে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা৷ অবশেষে এই যৌন নিপীড়নের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব৷ গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে৷

এদিকে শনিবার নগরীর বহদ্দারহাট এলাকা থেকে আরো একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার নাম সাইফুল। তাকে নিয়ে এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হলো।

শনিবার র‌্যাব-৭ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- চবির ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আজিম (২৩) ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুরুল আবছার বাবু (২২) এবং হাটহাজারী কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. নুর হোসেন শাওন (২২) ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মাসুদ রানা মাসুদ (২২)। এ ঘটনায় আরো একজন এখনোপলাতক রয়েছেন। তাদেরকে গ্রেফতারে র‌্যাব অভিযান চালাচ্ছে।

র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ বলেন, হাটহাজারী ও রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছয়জনের সম্পৃক্ততা পেয়ে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত তিনজন চবি শিক্ষার্থী। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না হলেও তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকায় অবস্থান করেন।

তিনি বলেন, মূল অভিযুক্ত আজিম ইতিহাস বিভাগের ছাত্র। তার নেতৃত্বই এ ঘটনা ঘটে। তার বাসাও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এলাকায়। আজিম ক্যাম্পাস এলাকায় একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়ে থাকে। তার নেতৃত্বে ছয়জন দুটি মোটরসাইকেল যোগে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেছেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ বলেন, প্রথমে আজিমকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে বাকি ৫ জনের নাম পাওয়া যায়। ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল দুটি ছিল সাইফুল ও শাওনের। ঘটনাটি ঘটেছে কোনোরকম পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া। ভিকটিম ও অপরাধীরা কেউ কাউকে আগে থেকে চিনত না। এ ছয়জন বাইরে কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ জুলাই রাতে সাড়ে ১০টার দিকে বন্ধুর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকা থেকে হলের দিকে ফিরছিলেন ওই ছাত্রী। আজিম ও তার গ্রুপ চবি এলাকায় রাতে আড্ডা দিচ্ছিল। এ সময় হয়রানির শিকার ছাত্র ও তার ছেলে বন্ধুর দিকে হঠাৎ নজর পড়ে আসামিদের। তারা গিয়ে প্রথমে ছাত্রী ও তার ছেলে বন্ধুকে বিভিন্ন কথা জিজ্ঞেস করে চাঁদা দাবি করে।

একপর্যায়ে তারা মানিব্যাগ ও মোবাইল নিয়ে যায়। তাদের দুজনকে আটকে রেখে এলোপাথাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে অভিযুক্তরা। মারধরের একপর্যায়ে ছাত্রীটিকে বিবস্ত্র করে ফেলে আসামিরা। এছাড়া শ্লীলতাহানি করে ও ভিডিও ধারণ করে। এরপর তাদের কাছ থেকে মোবাইল ও মানিব্যাগ নিয়ে ছেড়ে দেয়।

তিনি বলেন, আসামিরা তিনটি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেছে। মোবাইল তিনটি জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি আজিমের আর দুটি মোবাইল ওই ছাত্রী ও তার বন্ধুর। এদিকে দুপুরে তাদেরকে হাটহাজারী থানায় হস্তান্তর করা হয়।