চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর কাট্টলীস্থ পোর্ট লিংক রোডের পাশের এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বহু দিনের আকাঙ্খিত চট্টগ্রামের প্রথম মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেছেন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজ্জাম্মেল হক এমপি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি।

গতকাল ২৮ অক্টোবর ২০২১ ইংরেজি বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিদর্শন শেষে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদ ও জেলা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম সরওয়ার কামাল দুলু।

সাক্ষাৎকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়া, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য নাহিদ ইজহার খান এমপি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ফরিদা খানম সাকী এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি এম.ইদ্রিস সিদ্দিকী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোমিনুর রহমান, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল হক চৌধুরী সৈয়দ, সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধন চন্দ্র বিশ্বাস, সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম (যুদ্ধাহত), জেলা সংসদের সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক, সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ হোসেন, সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম আলাউদ্দিন, সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা বোরহান উদ্দিনসহ মহানগর-জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সর্বস্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের নেতৃবৃন্দ।

মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘরের স্থান পরিদর্শনকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজ্জাম্মেল হক এমপি বলেন, ঢাকার পরে মুক্তিযুদ্ধের সুঁতিকাগার চট্টগ্রাম। নগরীতে একটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ ও যাদুঘর নির্মাণ সরকারের মহাপরিকল্পনা। একমাস পূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব জায়গা দেখে গেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালকে অবহিত করেছেন। বিস্তরিত আলোচনাও হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের খুবই ভালোবাসেন বলেই অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে এ বিষয়টি সম্মতি দিয়েছেন। এ জমিগুলো প্রতীকী মূল্যে আমাদের মন্ত্রণালয়ের হাতে ন্যস্ত করা হলে আমরা সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবো ও দ্রুততার সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। আপনাদের যে পরিকল্পনা, তা বাস্তবায়ন ও সংরক্ষণ করবো আমরা। পরবর্তীতে যেন মানুষের সামনে তা উপস্থাপন করা যায় সে ব্যবস্থা করবো। এখানে বড়পরিসরে বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্যও নির্মাণ করা হবে।

তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী উত্তর কাট্টলীতে ২৯ একর জায়গার উপর নির্মাণ হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের প্রথম মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রকল্পের নকশা পাঠানো হবে। মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের মানুষের বিরত্বগাঁথা তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর এ প্রচেষ্টা। আগামী বছরের এপ্রিলে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন টানেল উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রীই এটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে এ বিষয়ে কথা বলেছি, এখন আমরা জায়গা সরেজমিনে দেখেছি। দেখে মনে হলো জায়গাটি অত্যন্ত চমৎকার, সৌন্দর্যমন্ডিত ও পছন্দের। মহান মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের মানুষের অবদান অন্যতম। এখানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ওয়্যারলেস, ইস্টার্ন জোনের সমন্বয়কারী মরহুম এম এ হান্নান, আলহাজ্ব জহুর আহমদ চৌধুরী, মরহুম এম.এ আজিজ ও মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনেক স্মৃতি রয়েছে।

পাহাড়তলী বধ্যভূমিসহ অনেক বধ্যভূমি এখানে রয়েছে। সে হিসেবে এ অঞ্চলের আলাদা একটা গুরুত্ব রয়েছে। ইতিহাস হয়েছে এ অঞ্চলের। নতুন প্রজন্মকে এসব জানাতে হবে। আশাকরি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর নির্মাণ করা গেলে এলাকাটি আরো নান্দনিক হয়ে উঠবে।