ঘুষ গ্রহণের ছবি। ভিডিও থেকে নেয়া, পাশে দাঁড়ানো কথিত (দালাল) মাধ্যম

এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : ঘুষ না দিলে ফাইল ধরেন না তিনি। ঘুষ না হলে ফাইল নড়াচড়া করতে পারে না। ঘুষ নিয়ে এমনই এক অভিযোগ উঠেছে রাজবাড়ী সদর উপজেলা ভূমি অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। তার ঘুষ গ্রহণের এমন একটি ভিডিও ফুটেজ এখন রাজবাড়ীতে ভাইরাল।

অভিযুক্ত কর্মচারীর বাবুল চন্দ্র সরকার, রাজবাড়ী সদর উপজেলার ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক। ভূমি অফিসের সবাই তাকে বাবু সাহেব নামেই ডাকেন।

বিষয়টি নিয়ে রাজবাড়ী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আকাশ কুমার কুন্ডু বলেন, এমন ঘুষ বাণিজ্যে অভিযুক্ত বাবুল চন্দ্রকে সাসপেন্ড করে তিন দিনের মধ্যে তাকে কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছে।

অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও হয়রানিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। নামজারি, মিসকেস সহ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ তার হয়রানির শিকার হন। তাকে ম্যানেজ না করলে মেলে না সমাধানের নিশ্চয়তা।

ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দু’জন বৃদ্ধ নামজারির একটি কাজে তার হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করছেন ভূমি অফিসের এক দালাল। ভিডিওটির শুরুতে এই কর্মচারী দালালকে উদ্দেশ্য করে একটু বিরক্তিকর সুরে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি এই সকাল বেলা কি পঁচা কামডা (কাজ) নিয়ে আইছো।’ পাশে থাকা লোকটি তখন বলেন, ‘না বাবু পঁচা না, এগুলো করে দিতে হবে। কোন উপায় নাই।’ পরে এই কর্মকর্তা আরো কিছু টাকা দাবি করলে (শব্দ অস্পষ্ট) দালাল তাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, টাকা ছাড়া কোন কাজই হয় না তার দফতরে। একটি কাজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শুধু ঘুরাচ্ছে। পরে একটি মাধ্যমে আমাকে জানানো হয় যে- বাবু সাহেবকে ম্যানেজ করেন। বাবু সাহেবকে ম্যানেজ করার পর কাজটি হয়ে যাবে বলে জানান।

সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের কাজীবাধা এলাকার একজন ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাবু টাকা ছাড়া কাজ করতে চায় না। টাকা না দিলে ফাইল ফেলে রাখে, ঝুলিয়ে রাখে। অনেক সময় নানা অজুহাত দেখিয়ে বড় স্যারের টেবিল পর্যন্ত ফাইল পৌঁছাতে দেয় না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সদর উপজেলা ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক বাবুল চন্দ্র সরকার বলেন, ভিডিওটি আমার দফতরের। এগুলো রাখেন। নিউজ করার দরকার নাই।

ভিডিওটি দেখে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম। তিনি বলেন, ঘটনার সত্যতা পেলে অবশ্যই কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।