আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) : এক রুগ্ন পথ কুকুর ও তার সদ্য জন্মানো ছয় বাচ্চার সাথে নিঁখাদ ভালোবাসা বিনিময়ের দৃশ্য দেখে চলতি মানুষ ও থানায় আসা সেবা গ্রহীতারা থমকে দাঁড়ায়। শত ব্যস্ততার মাঝেও পশুর প্রতি মানবিক মমত্ববোধের এ ঘটনা মানিকগঞ্জের ঘিওর থানা পুলিশের।

ঘিওর থানার এসআই আল মামুন বলেন, থানার বাউন্ডারীর পাশে মাস খানেক আগে খোলা আকাশের নিচে ফুটফুটে ছয়টি ছানা জন্ম দেয় এক কঙ্কালসার রুগ্ন পথ কুকুর। সদ্য জন্মানো ছানাগুলো নিয়ে আশ্রয় খুঁজছিল অসুস্থ মা কুকুরটি। ফাঁকা এলাকা, সঙ্গে ব্যস্ত রাস্তায় চলতে থাকা অগনিত গাড়ি। ফলে রাস্তার একধারে কোনো রকমে ছয় ছানাকে আগলাচ্ছিল মা কুকুরটি। রুগ্ন শরীরের মায়ের পক্ষে ৬ ছানার খাবার যোগান দেয়া কষ্টকর হয়ে পরে। বিষয়টি চোখে পড়ে থানার ওসি স্যারের। কুকুরটির এমন দশা দেখে এগিয়ে আসেন তিনি।

কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সহায়তায় থানার অভ্যন্তরে আনা হয় মা কুকুর ও তার ছয় ছানাকে। থাকার জায়গা দেয়া হয় যানবাহনের গ্যারেজে পাকা ঘরের কোনায়। তৈরী করে দেয়া হয় নরম বিছানা। নিয়মিত দেয়া হচ্ছে পছন্দের খাবার। পুলিশ সদস্যরা পরম যতনে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে মা কুকুর ও ছয় ছানা। পুরো থানা আঙিনা জুড়েই এখন তাদের বসত বাড়ি। বিচরণেও রাজসিক ভাব। এক মাস বয়সী ছয় ছানা (৪ ছেলে ২ মেয়ে) ও মা কুকুরটি খাদ্য ও নিরাপদ আবাসস্থলের নিশ্চয়তা পেয়ে বেশ সুখেই দিনাতিপাত করছে। থানার আতিথেয়তায় আপাতত নিরাপদে আছে প্রাণীগুলো।

এদিকে ছয় ছানার নাম রাখা বিড়ম্বনায় সবাই তাদের ডাকে লালু-ভুলু বলে। নাম ডাক যাই হোক এখন তাদের অভিভাবক ঘিওর থানা পুলিশ। যার যখন সুযোগ হয় বিস্কুট, টোস্ট, কেক, কলা, উচ্ছিষ্ট খাবার খাওয়ায় কুকুরগুলোকে। তাদের পরম আদরে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে ছোট্ট ছানাগুলো।

শুক্রবার সকালে দেখা যায়, থানা আঙিনায় ছানাগুলো দলবেঁধে মায়ের দুধ পান করছে, মাকে নিয়ে গড়াগড়ি আর হুটোপুটি খাচ্ছে, এদিক ওদিক দুষ্টুমণিদের ছোটাছুটিতে সময় কাটছে। থানার ওসি মো: আমিনুর রহমান লালু ভুলু বলে ডাকতেই কাছে এসে হাজির প্রাণীগুলো। এরপর দোকান থেকে কিনে আনা পাউরুটি আর কেক টুকরো টুকরো করে পরম যতনে খাওয়ালেন ওসি। সাথে সহায়তা করছেন এসআই আল মামুন ও দুই কনস্টেবল।

কুকুরের সাথে নিখাদ ভালোবাসা বিনিময়ের দৃশ্য দেখে পথচলতি মানুষ ও থানায় আসা সেবা গ্রহীতারা থমকে দাঁড়ায়। ব্যস্ততার মাঝেও পশুর প্রতি মমত্ববোধ দেখে উঠে আসে পুলিশের ভিন্ন এক মানবিক দিক।

ঘিওর থানার ওসি মো: আমিনুর রহমান বলেন, সকল প্রাণীর রিজিকদাতা তো আল্লাহতায়ালা। আমরা না হয় ওদের একটু দেখাশোনা করি, ব্যস্ত সময়ের মাঝেও কিছু খেতে দেই। ছয় ছানা নিয়ে মা কুকুরটির আনন্দ দেখে আমাদেরও ভালো লাগে। সার্কেল স্যারও (শিবালয় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) প্রায় প্রতিদিনই ওদের জন্য খাবার নিয়ে এসে নিজের হাতে খাওয়ান।