আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর, মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের ঘিওরে স্ত্রীকে হত্যা পর লাশ ধলেশ্বরী নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার অভিযোগে স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত আবুল হোসেন তার স্ত্রীকে হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে মানিকগঞ্জ ৬ নং আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে। পরে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

এদিকে বুধবার সকাল থেকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি ওই নারীর মরদেহ।

ঘটনাটি ঘটেছে ঘিওর উপজেলার ঘিওর সদর ইউনিয়নের কুস্তা গ্রামে। নিহত মাজেদা বেগম (৩০) দুই সন্তানের জননী। নিহতের মা বাদী হয়ে মঙ্গলবার ঘাতক আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মাজেদা উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের বালিয়াবাঁধা গ্রামের মৃত ছবেদ আলীর মেয়ে। ১০ বছর আগে মাজেদার বিয়ে হয়েছিল রাজবাড়ীতে। বছর তিনেক স্বামী নুরুল ইসলামের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। সেখানে তার দুই সন্তান রয়েছে। এরপর মাজেদা বাবার বাড়ি থেকে সাভারের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। গত ৭ মাস আগে আবুল হোসেনের সঙ্গে গোপনে বিয়ে হয় মাজেদার।

বিয়ের পর থেকেই মাজেদা বেগমের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না আবুলের। প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ লাগতো। বেশ কয়েকদিন ধরে মাজেদার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করে আসছিল আবুল। অন্যথায় মেরে ফেলার হুমকি দেয় মাজেদাকে । গত শনিবার মাজেদা নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় আসামি আবুল হোসেনের প্রতি মাজেদার পরিবারের সন্দেহ হয়।

পুলিশের কাছে মাজেদের মা ঘটনাটি জানালে স্বামী আবুল হোসেনকে মঙ্গলবার দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে সে স্ত্রীকে নদীতে ডুবিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে। এদিকে মঙ্গলবার দুপুর থেকে মাজেদার মরদেহ উদ্ধারে ধলেশ্বরী নদীতে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন।

আজ বুধবার শিবালয় সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরজাহান লাবনী, ঘিওর থানার ওসি মো: রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লবের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ধলেশ্বরী নদীতে ট্রলার নৌকা যোগে মরদেহের উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত নিহত মাজেদার মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি তারা।

ঘিওর থানার ওসি মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব জানান, আবুল হোসেন তার স্ত্রীকে হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে মানিকগঞ্জ আদালতে। পুলিশ ও শিবালয় ফায়ার সার্ভিসের ৫ সদস্যের স্পেশাল ডুবুরি দল নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করতে দুইদিন যাবত অভিযান চালিয়েছে। এখন পর্যন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়নি।