আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) : বিয়ে করতে গিয়ে কারাগারে গেলেন বর। অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৩ বছরের) সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বিয়ে করতে যাওয়ায় বরকে ৭ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ সোমবার আটক বরকে কারাগারে পাঠিয়েছে ঘিওর থানা পুলিশ। এ সময় কনের বাবাকে জরিমানা ও প্রাপ্ত বয়স্কা না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে না দেয়ার মুচলেকাও আদায় করা হয়েছে।

গত রোববার রাতে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের শাইলকাই গ্রামে কনের পিতার বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুর রহমান এ দন্ডাদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের মৌহালি গ্রামের মৃত সাইদুর রহমানের ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৬)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাতে শাইলকাই গ্রামে ১৩ বছর বয়স্ক এক স্কুল শিক্ষার্থীর বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন ইউএনও হামিদুর রহমান। এ সময় তার সাথে ঘিওর থানার এস.আই মো: সেলিম হোসাইন রকিসহ পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সটকে পড়েনয় বরের মা-বাবাসহ আত্নীয় স্বজন ও কাজী। এ সময় এই বাল্যবিবাহ বন্ধ করার নির্দেশ ইউএনও। বর শহিদুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ।

ইউএনও হামিদুর রহমান বলেন, শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। বরপক্ষ সন্ধ্যায় কনের বাড়িতে উপস্থিত হয়। এলাকাবাসীর কাছে বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় কনের বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। দুই পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা মেলে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে বর তাঁর অপরাধ স্বীকার করে নেন। পরে রাত ৯ টার দিকে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বরকে সাত মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং কনের পিতা মাতার মুচলেকা আদায় করা হয়।

স্থানীয় পয়লা চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ বলেন, এই বাল্যবিবাহ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বরের সাজা ও কনে পক্ষের মুচলেকা দেওয়ায় অন্য অভিভাবকেরা সচেতন হবেন।

ঘিওর থানার ওসি মোঃ আমিনুর রহমান বলেন, সাজাপ্রাপ্ত বরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।