আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর, মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের ঘিওরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় এক আওয়ামী লীগ নেতার ওপর ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলার শিকার মোঃ বেলাল উদ্দিন মোল্লা ঝিলুকে (৬৩) ঘিওর সদর ইউনিয়নের কাহেতারা (গোলাপনগর) গ্রামের বাসিন্দা এবং সে ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি। তিনি এখন ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ব্যাপারে মোঃ বেলাল উদ্দিন মোল্লা বিজয়ী চেয়ারম্যান টুটুলের সমর্থক বাদল মিয়া, তৈয়ব আলী, শরীফ শিকদার, সেকেন আলী, রিপন মোল্লা, মোঃ সোহেল, সুজনসহ ৮ জনকে অভিযুক্ত করে ঘিওর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় বর্তমানে ঘিওরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘিওর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজয়ী চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম টুটুলের সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

আজ বুধবার বিকেলে ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ঝিলু বলেন, কৃষ্ণপুর কেন্দ্রে নৌকা প্রতীক ১৭ ভোট পায়। এই ১৭ ভোট কেন পেল? এমন প্রশ্ন তুলে বিদ্রোহী প্রার্থী অহিদুল ইসলাম টুটুলের কর্মী সমর্থকরা তাকে এলোপাথারী পিটিয়ে আহত করে। নির্বাচনের পরের দিন রাত ৯ টায় গোলাপনগর মাঠে আমাকে ও আমার ছেলেকে মারাত্মকভাবে মেরে আহত করে। বাড়িতে গিয়েও হামলা করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঝিলু গত ২৬ ডিসেম্বর ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতিকে এলাকার লোকজনের নিকট ভোট প্রার্থনা করেন। নির্বাচনে নৌকা প্রতীক হেরে যাবার কারনে গত সোমবার গোলাপনগর গ্রামে ৩০/৪০ জনের সংঘবদ্ধ একটি দল এলোপাথারী পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এলাকার লোকজন তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় ঘিওর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তার অবস্থা আশংকা জনক।

ঘিওর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল আলীম মিন্টু জানান, ঝিলু দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে জড়িত। ২৬ ডিসেম্বর ঘিওর ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে তার নিজ এলাকায় নৌকা মার্কায় ভোট চাওয়ার কারনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা তাকে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেছে। তিনি ঘটনার সাথে জড়িতদের তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবি করেন।

ঘিওর সদর ইউপি নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম টুটুল বলেন, ঝিলু ভাইকে কেউ মারে নি। কথা কাটিাকাটির সময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সে তো আমার সমর্থক। তাহলে কেন তাকে মারা হবে? নির্বাচনে পরাজিত হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন এমন কুৎসা রটাচ্ছেন।

ঘিওর থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ মোহাব্বত খান সাংবাদিকদের জানান, এ ব্যাপারে ৮ জনকে আসামী করে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। । দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।