ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের ঘিওরে এক নববধুর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের শোলধারা গ্রামে।

বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে শোলধারা গ্রামে শশুর বাড়ি থেকে সুমি আক্তার (২২) নামে ঐ গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত সুমির বাবার বাড়ি বানিয়াজুরী ইউনিয়নের কাকজোর গ্রামে। দুই মাস পূর্বে পার্শ্ববর্তী শোলধারা গ্রামের মরহুম আব্দুর রশিদের ছেলে রূপকের (২৮) সাথে বিয়ে হয়। রূপক পেশায় মুহুরী, সে মানিকগঞ্জ জজ কোর্টে কাজ করতেন।

এ ঘটনায় শ্বাশুরী আহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিবালয় সার্কেল নুরজাহান লাবলী। এ ঘটনার পর নববধুর স্বামী রুপক আহমেদ পলাতক রয়েছে।

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, রুপক তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। মাত্র দুই মাস আগে তাদের বিয়ে হয়েছে। নিহত সুমী কাকজোর গ্রামের রহম আলীর মেয়ে।

সরজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা গেছে, হত্যাকান্ড সম্পর্কে নানা কথা। প্রতিবেশী নারগিস আক্তার বলেন, সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে রুপকের বাড়ি থেকে তার মায়ের চিৎকারের শব্দ পেয়ে বাড়ির গেইটের সামনে যাই। রুপকের মা রুপককে উচ্চ স্বরে বলতে শোনা গেছে একি করলি। এই কথা ষ্পষ্ট শোনার পর আমরা ভেতরে যেতে চাইলে তারা আমাদের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। তারা বলে দেয় আমাদের বাড়িতে কিছুই হয়নি। আপনারা চলে যান। এই কথা শোনার পর আমরা চলে আসি। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে ঘিওর থানার পুলিশ আসে। আমাকে নিয়ে রুপকের বাড়ি যায় তারা। বাড়িতে গিয়ে দেখি কেউ নেই। ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। পরে পুলিশ তা খুলে ফেলে । এরপর ভেতরের একটি কক্ষে গিয়ে দেখি রক্তমাখা রুপকের স্ত্রীর গলাকাটা লাশ।

নারগিস আক্তার আরো বলেন, রোজার ঈদের পর রুপক পাশের গ্রামের সুমী আক্তারকে বিয়ে করেছে। এই অল্প দিনের সংসারে এমন একটি ঘটনা ঘটবে তা কল্পনাও করতে পারিনি।

বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টু বলেন, দুপুরের দিকে নিহতের মা ও আরেক মহিলা আমার বাড়িতে এসে জানায় তার মেয়েকে (সুমী) খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। মেয়ের শ্বাশুরীকে কে যেনো গলায় আঘাত করেছে। এরপর পরপরই থানায় থেকে ফোন পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ঘরের ভেতর সুমী আক্তার নামের নববধুর গলাকাটা লাশ। পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকান্ডটি ঘটেছে এটা নিশ্চিত।

শিবালয় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরজাহান লাবলী বলেন, দুপুর আড়াইটা নাগাদ মানিকগঞ্জের একজন আইনজীবি ফোন করে আমাদের জানায় তার খালাতো বোন গলায় আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে তার জন্য একটি জিডি প্রয়োজন।

আমরা তার কাছে জানতে চাই কিভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন ছেলের বৌ নাকি এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এ কথা শোনার পর অভিযুক্ত আসামীকে (ছেলের বৌ) গ্রেফতারের জন্য শোলধারা গ্রামে চলে আসি। এসে দেখি দরজা বাহির থেকে লক করা। পরে ঘরের ভেতরের একটি ষ্টোর রুমে গিয়ে দেখি অভিযুক্ত ছেলের বৌয়ের গলা কাটা লাশ পড়ে আছে। পেছনে হাত বাধা অবস্থায় ছিল। ধারনা করা হচ্ছে পারিবারিক কোন ঘটনার জেরে এই হত্যা কান্ডটি ঘটে থাকতে পারে। এছাড়া শ্বাশুরী সাভারের একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং সে জীবিত আছে। তবে কোন হাসপাতালে আছেন আমরা বিস্তারিত খোজ খবর নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি।