আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) : মানিকগঞ্জের ঘিওরে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীদের রক্ত পরীক্ষা ও হেপাটাইসিস বি টিকার নামে ধোকা দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিয়োগ উঠেছে। এ ঘটনায়় কথিত ও ভুয়া তিন স্বাস্থ্য কর্মীকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয়া হয়।

সোমবার দুপুরে ঘিওর উপজেলার বানিয়়াজুরী ২৫ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক বাবুল মিয়়ার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন অভিভাবকরা।

জানা গেছে, বেসরকারী আল ন‚র ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের নামে একটি চক্র বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রক্ত পরীক্ষার নামে ধোঁকাবাজি ও অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। কথিত ওই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের কার্য়ক্রম বন্ধ হয়ে গেছে আরো ২ বছর আগে বলে জানায় এ ঘটনায় আটককৃত ৩ স্বাস্থ্যকর্মী।

এ ঘটনায় বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়েপড়ায় ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ঘটনাস্থলে আসেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: হাসিব আহসান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা: সুজিত কুমার সরকার, উপজেলা স্যানেটারী ইন্সপেক্টর মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো: জাবেদ আলী, স্থানীয় বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টুসহ এলাকার মুরুব্বীরা। বেলা দুইটার দিকে উপজেলার বানিয়াজুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরজমিন এমন দৃশ্য দেখা য়ায়। এসময় ঘটনার সাথে জড়িত চক্রের তিন সদস্যকে পুলিশ আটক করেছে। আটক কথিত স্বাস্থ্য টিমের প্রধান পটুয়াখালী জেলার আব্দুল কাদের (৪৮), সহয়োগী তার ভাই মোঃ জাহিদুল ইসলাম (২২) এবং ঘিওরের মৌহালী গ্রামের সোনিয়া আক্তার (৪০)।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ বাবুল মিয়া বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থীদের ডাটাবেস তৈরীর জন্য রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করার কাজে তাদের সাথে চুক্তি হয়। এ নিয়ে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি ও অভিবাবকদের সাথে আলোচনা সভাও হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৪০ টাকার বিনিময়় ১৬০ জন শিক্ষার্থীর রক্ত গ্রুপ পরীক্ষা করা হয়।। তারা আমাদের সিভিল সার্জনের অনুমোদনের কাগজ দেখিয়েছেন। পরে জানা য়ায়, তাদের বৈধ কাগজ পত্র নেই এবং সরকারী অনুমোদনও নেই। তাদের পুলিশ ধরে নিয়ে গেছেন।

অভিভাবক মো: আনিসুর রহমান বলেন, রক্ত পরীক্ষার নামে ৪০ টাকা এবং টিকা দিতে ৪০০ শত টাকা নিয়েছে। কোমলমতি শিশুদের সাথে এমন প্রতারকদের কঠোর শাস্তি চাই। সেই সাথে স্কুলের প্রধান শিক্ষক না বুঝেই কেন তাদের অনমিতি দিলেন, তাকেও বিচারের আওতায় আনা হোক।

অভিভাবক মো: জাকির হোসেন বলেন, একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিশুদের সাথে কেনো প্রতারণা করা হলো। এর জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষক দায়ী বলে আমি মনে করছি। তার বিরুদ্ধে আগে তদন্ত করা হোক।

ঘিওর থানোর ওসি মো: আমিনুর রহমান বলেন, বানিয়াজুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়়ে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সরকারের অনুমোদন বিহীন দুজন পুরুষ ও একজন মহিলা স্কুলের শিশুদের টিকা দেওয়়ার জন্য এবং রক্ত পরীক্ষা করার জন্য আসেন। তাহাদের কোন অনুমতি না থাকায়় স্থানীয়় লোকজন তাদেরকে আটক করে ঘিওর থানা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়়ার কার্য়ক্রম করছেন।

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান ও পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ তাদের আটক করে নিয়ে আসে। তাদের কোন বৈধ কাগজপত্র ও অনুমোদন নেই, তারা নিজেরাও ভ‚য়া স্বাস্থ্য কর্মী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরো বলেন সর্বশেষ বিকাল সাড়ে পাঁচটায় তাদের মুচলেকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেখে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে আহবায়ক এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সদস্য করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে তদন্ত রিপোর্ট পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।