ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের ঘিওরে ফসলী জমির পাশে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করতে নিষেধ করায় এক কৃষক পরিবার হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হামলায় কৃষক জহির উদ্দিনের পরিবারের নারীসহ ৭ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এ সময় বসতবাড়ি ভাঙচুর করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের করজনা গ্রামে শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

ভূক্তভূগী পরিবার, এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এলাকার চিহ্নিত সংঘবদ্ধ বালু ব্যবসায়ী করজনা গ্রামের কয়েকজন সন্ত্রাসী এ হামলায় নেতৃত্ব দেন। তারা স্থানীয় রাজনৈতিকভাবে বেশ প্রভাবশালী। তাই ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। এ ব্যাপারে ভূক্তভূগী পরিবার শনিবার দুপুরে ঘিওর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সরজমিন দেখা যায়, উপজেলার করজনা গ্রামে ফসলের খেতের মাঝে এক জলাশয় থেকে ড্রেজার বসিয়ে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন সনোজ, দীপু, জুলহাস, বিধান, সাকিব ও শাহজাহান নামের বালু ব্যবসায়ীরা। এই বালু উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতেন।

ড্রেজার বসানোর ফলে আশেপাশের ফসলী জমি ভাঙনের কবলে পরে। ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকরা বারবার নিষেধ করার পরও বন্ধ হয়নি বালু ব্যবসায়ীদের ড্রেজার আগ্রাসন। ড্রেজার বসানো পাশের জমির মালিক কৃষক জহির উদ্দিন। তার জমিতে ভাঙনের কবলে পরে। তাই তিনি ড্রেজার বন্ধ করতে বলেন বালু ব্যবসায়ী জুলহাস উদ্দিনকে।

বিষয়টি অন্যান্য বালু ব্যবসায়ীরা জানার পর ক্ষিপ্ত হয়ে ১৫/২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কৃষক জহির উদ্দিনের বাড়িতে হামলা করে। বাড়ির বেড়া, দরজা ও জানালা ভেঙে ফেলে। এ সময় স্বর্ণালংকার ও টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেন ভূক্তভূগী পরিবারের সদস্যরা।

বাধা দিতে এসে হামলার শিকার হন জহির উদ্দিন (৭০), তার স্ত্রী আন্না বেগম (৫৫), ছেলে মামুন (২৮), পুত্রবধূ শারমীন (২৮) ও ফাতিয়া (৩০) সহ প্রায় ৭ জন।

এ সময় তাদের চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহতদের মধ্যে জহির উদ্দিন, আন্না বেগম, মো: মামুন ও শারমীন ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। বাকিরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার এক জনপ্রতিনিধি বলেন, দীর্ঘদিন যাবত সংঘবদ্ধ চক্রটি ড্রেজার ব্যবসার নামে মানুষের ক্ষতি করে আসছিল। এলাকার লোকজন ভয়ে মুখ ফুটে কেউ কোন ধরনের প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।

ঘিওর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আমিনুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।