আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর, মানিকগঞ্জ : বারো মাসে তের পার্বণ প্রচলিত এই প্রবাদটি মনে করিয়ে দেয় বাংলার উৎসবের প্রাচুর্যতার কথা। সব ঋতু বা মাসেই কোনো না কোনো উৎসবকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে অনুষ্ঠান। সব বদলালেও বদলায়নি আমাদের চিরচেনা গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলা এবং উৎসব গুলো। কিন্তু কালের আবর্তে দিন দিন কমে আসছে বাঙালীর আদি সংষ্কৃতির এই অনুষঙ্গ। লোক সংস্কৃতির এই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে ঘিওরের রাথুরা গ্রামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মধ্যযুগের রচিত প্রণয়কথা বিষয়ক আখ্যান ঐতিহাসিক কীর্তন ঢঙের যাত্রাপালা নিমাই সন্ন্যাস। শত শত মানুষ উপভোগ করে এই পালাটি।

শত বছরের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরীর রাথুরা গ্রামে লক্ষ্মী নারায়ন কুঠিরে কার্তিকের শেষভাগে বসে মেলা।

এ মেলার তৃতীয় দিনে যাত্রাপালা নিমাই সন্ন্যাস মঞ্চস্থ হয়েছে। আজ অনুষ্ঠিত হবে রহিম বাদশা রূপবান কন্যা যাত্রাপালাটি। অন্যান্য বছর দুই দিনব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হলেও এবার মেলা বসেছে চার দিনের। অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর জনসমাগম বেশী হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেলা আয়োজক কমিটির সদস্যরা।

অনীল সরকারের নির্দেশনায় বানিয়াজুরী নাট্য দলের শিল্পীরা যাত্রাপালাটি পরিবেশন করেন। এতে অভিনয় করেন অনিল সরকার, চায়না সরকার, মালতি, পালন সরকার, সাধনা রানী তুলসি রানী প্রমুখ। সুনিপুণ অভিনয় শৈলির মাধ্যমে মানুষজন আবেদ আপ্লুত হয়ে যাত্রাপালাটি উপভোগ করেন।

মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিপ্লব কুমার সাহার সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উত্তম কুমার সাহা, ঠাকুর দাস বালো, অজিত সিংহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রমেশ চন্দ্র মন্ডল, চিত্ত রঞ্জন মন্ডল, সুবোধ মন্ডল, লোকমান মোল্লা, ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।