ফাইর ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর দক্ষিণ মুগদা এলাকায় একটি বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ চারজনের মধ্যে মা ও ছেলে মারা গেছে।

তারা হলেন, প্রিয়াংকা বাড়ৈ (৩২) ও তার পাঁচ বছরে ছেলে অরূপ বৌদ্ধ ওরফে রউফ।

সোমবার দিবাগত রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে তাদের মৃত্যু হয়।

সোমবার সকালে এ বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ হয়। তারা হলেন, সুধাংশু বৌদ্ধ (৩৫), তার স্ত্রী প্রিয়াংকা বাড়ৈ (৩২), একমাত্র ছেলে অরূপ বৌদ্ধ ওরফে রউফ (৫) ও সুধাংশুর শাশুড়ি শেফালী রাণী বাড়ৈ (৫৫)।

আজ মঙ্গলবার সকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. এস এম আইয়ুব হোসেন জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে রাজধানীর মুগদা মাদবর গলি ৩৭ নং বাড়ির পাঁচতলা বাসার নিচতলায় রান্নাঘরে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ অবস্থায় তাদের সবাইকে সকাল ৯ টার দিকে উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রিয়াংকা ও তার পাঁচ বছরের ছেলে অরূপ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে মারা যায়।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রিয়াংকা সোমবার রাত ২ টার দিকে ও তার ছেলে রাত ১১টার দিকে মারা গেছে। প্রিয়াংকার শরীরের ৭২ শতাংশ ও তার ছেলের শরীরে ৬৭ শতাংশ দগ্ধ ছিল।

এ ছাড়া চিকিৎসাধীন প্রিয়াংকার মা শেফালী (৫৫) ও তার স্বামী সুধাংশুর (৩৬) অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে প্রিয়াংকার মা’র শরীরের ৩৫ শতাংশ ও প্রিয়াংকার স্বামীর শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।

প্রিয়াংকার বড় ভাই পলাশ বাড়ৈ জানান, তার বোন পরিবারসহ গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুর জেলার ভেদেরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে থাকতেন। বোন জামাইয়ের পেট ব্যাথার চিকিৎসার জন্য গত পরশু পরিবার নিয়ে তারা ঢাকায় আসেন। মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল তার। সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রিয়াংকা পানি গরম করতে রান্না ঘরে যায়। গ্যাসের চুলা চালু করে দিয়াশলাই জ্বালাতেই রান্না ঘরে বিকট শব্দ হয়। এতে বাসায় থাকা তারা ৪ জনই দগ্ধ হন।

এ দিকে, মুগদা থানার উপ পরিদর্শক ইব্রাহিম খলিল জানান, ধারণা করা হচ্ছে চালু করে রাখা গ্যাসের চুলা থেকে রান্না ঘরে গ্যাস জমে ছিলো। আগুন জ্বালাতেই গ্যাস বিস্ফোরণ হয়।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া জানান, গ্যাস বিস্ফোরণের দগ্ধ চারজনের মধ্যে দু’জন মারা গেছে। তাদের মরদেহ মর্গে রাখা আছে।