এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উপবৃত্তির টাকা নিশ্চিত করার নাম করে বিকাশের মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রতারক চক্র।

শিক্ষা কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে এ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকার প্রত্যেক স্তরের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দিচ্ছে।

জানা গেছে, এই উপজেলার শিক্ষার্থীরা নিয়মানুযায়ী উপবৃত্তি পেয়ে আসছে। কিছুদিন আগে কলেজ পর্যায়ে উপবৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করে কলেজে পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তালিকা আসার পর থেকে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পরিচয়ে গোয়ালন্দ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মোবাইল ফোনে বিভিন্ন নম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের নাম-ঠিকানা ও বাবা-মায়ের নাম বা কলেজের ক্লাস রোল পর্যন্ত বলছে প্রতারক চক্র। গোয়ালন্দ উপজেলার আব্দুল হালিম মিয়া কলেজের অন্তত বিশ পচিশজন শিক্ষার্থী উপবৃতৃতির টাকাসহ মোবাইলে গচ্ছিত অন্য টাকাও হারিয়েছে।

আবদুল হালিম মিয়া কলেজের শিক্ষার্থী মুক্তার হোসেন। তিনি বলেন, উপবৃত্তির চব্বিশ শত টাকা পাওয়ার কথা বলে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তার পরিচয়ে তার নাম বাসার ঠিকানা শ্রেণি রোল সব ঠিক ঠাক বলে। তারপর বলা হয় তোমার মোবাইলে একটি নাম্বার যাবে সেই নাম্বার আমাকে তারাতাড়ি জানাও তারপর টাকা তোমার নাম্বারে চলে যাবে। সব কিছু ঠিকঠাক বলাতে তার বিশ্বাস চলে আসে এবং সে ওই নাম্বার বলে দেয় সাথে সাথে তার নিজের পচিশ শত টাকাও উধাও হয়ে যায়।

এ ছাড়া কলেজের ছাত্রী মনিরা, ঝর্নাসহ বেশ কিছু ছাত্র ছাত্রীর টাকা এভাবেই পিন নাম্বার নিয়ে মেরে দিয়েছে চক্রটি। এ ব্যাপারে আব্দুল হালিম মিয়া কলেজের অধ্যক্ষা বিলকিস আক্তার বলেন আসলে ব্যাপারটি দুঃখজনক কে বা কারা এভাবে ছাত্র ছাত্রীর সাথে প্রতারণা করে এভাবে করে টাকাগুলো নিলো।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, আসলে ছাত্র-ছাত্রীর আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। কারণ টাকা সরাসরি তাদের বিকাশ নাম্বারে চলে যায়। তারা যদি পিন নাম্বার বলে দেয় আমরা কি করতে পারি? তাছাড়া আমাদের পরিচয় দিলে ছাত্রছাত্রীর উচিত ছিল তাদের প্রিন্সিপালকে জানানো। সেক্ষেত্রে প্রিন্সিপাল আমাদের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হতো।