মনজুর আহমদ, গোয়াইনঘাট : গোয়াইনঘাট বন্যার পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ ধারণ করছে, পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ, অবশেষে আশ্রয়কেন্দ্রেগুলোতেও পানি উঠেছে। রাতে অল্প কিছু পানি কমলেও বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিপদ সীমার উপরে পানি প্রবাহিত হয়। এতে মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করে।

এদিকে টানা বৃষ্টি আর আর পাহাড়ি ঢলে গোয়াইনঘাট উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে পড়ে। উপজেলার ৯৮ ভাগ ঘর বাড়িতে পানি উঠেছে। কয়েক লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। বিভিন্ন ইউনিয়নে ৪০ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

তাছাড়া আশ্রয় কেন্দ্রেগুলোতেও পানি উঠেছে। আশ্রয় কেন্দ্র পানিবন্দি মানুষের সংকুলান হচ্ছে না। তবে আশ্রয় কেন্দ্রে কতজন মানুষ অবস্থান করছেন, নেটওয়ার্ক না থাকায় এখনও সটিক তথ্য পাওয়া যাযনি। গত কয়েকদিন থেকে টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ছিল।

কিন্তু বুধবার রাতে পানি কিছুটা কমলেও বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে সারি ও ডাউকি নদী দিয়ে বিপদ সীমার উপরে পানি প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলা সদরসহ ১২ টি ইউনিয়নের ৯৮শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। সারি-গোয়ািনঘাট সড়ক, গোয়াইনঘাট-সালুটিকর সড়কসহ জেলা শহরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

নদনদী দিয়ে বিপদ সীমার উপরে পানি প্রবাহিত হওয়ার উপজেলাবাসীর মাঝে অজানা আতংক বিরাজ করছে। বিশেষ করে দিন মজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকের ঘরে খাবার নাই। আবার অনেকের ঘরে খাবার থাকলেও চুলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রান্না করে খাবার খেতে পারছেন না।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাট বাজার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যবসা বানিজ্য ও পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এরির্পোট লেখা পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

জানতে চাইলে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাহমিলুর রহমান জানান, গোয়াইনঘাটে উপজেলা প্লাবিত রয়েছে। এ ছাড়াও বিপদ সীমার উপরে সারি ও ডাউকি নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ৪০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তাছাড়া মন্ত্রী মহোদয়ের দেওয়া ৪৪টন চাল পানিবন্ধী মানুষের মাঝে বিতরণ চলছে।