গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। সারী-গোয়াইনঘাট সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। ছবি: প্রতিনিধি         

মনজুর আহমদ, গোয়াইনঘাট : অব্যাহত ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত গোয়াইনঘাট উপজেলা ৷ একদিকে বিদ্যুৎ নেই, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, উপজেলা সদরসহ হাঠবাজার তলিয়ে যাওয়ায় অসহনীয় দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন উপজেলাবাসী।

রোববার দিবাগত রাত থেকে সারি ও ডাউকি নদী দিয়ে নেমে আসা পানিতে গোয়াইনঘাট উপজেলা সর্বত্র তলিয়ে গেছে। বিপদ সীমার উপরে সারি ও ডাউকি নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে গোয়াইনঘাটের সিংহ ভাগ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এতে সিলেট শহরের সাথে উপজেলা সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পন্ন বিচ্ছিন্ন রয়েছে।


বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব ভবন

এ ছাড়া উপজেলা সদরের সাথে ১২টি ইউনিয়নের প্রায় ৪ লাখ জনগোষ্ঠীর যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। হাজার হাজার ঘর বাড়িতে পানি উঠেছে। গ্রামীন রাস্তা ঘাট বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। শতকরা ৯০% শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছে, এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অনেক হাট বাজারে পানি উঠায়, হাঠবাজার অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। বোরো ও আউশের বীজতলা এবং বোনা আমনের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা রয়েছে।

এদিকে কৃষকেরা গবাদি পশু নিয়ে রয়েছেন বিপাকে। চরম গো-খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। অপরদিকে বন্যার কারনে শ্রমিকরা কোন কাজে যেতে না পারায় শ্রমিকরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পর্যাপ্ত ত্রানের অভাব রয়েছে।

সরজমিন ঘুরে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে খবর নিয়ে জানা গেছে সারী-গোয়াইনঘাট সড়ক সম্পন্ন পানিতে তলিয়ে গেছে, এতেকরে সিলেট শহরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গোয়াইনঘাট-সালুঠিকর সড়ক, গোয়াইনঘাট-হাদারপার সড়ক, গোয়াইনঘাট-সোনারহাট সড়ক, গোয়াইনঘাট-জাফলং সড়ক বানের পানিতে তলিয়ে গেছে।

পুর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়ন, পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়ন, পুর্ব জাফলং ইউনিয়ন, মধ্য জাফলং ইউনিয়ন, পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন, ডৌবাড়ী ইউনিয়ন, রস্তমপুর ইউনিয়ন, তোয়াকুল ইউনিয়ন, নন্দীরগাঁও ইউনিয়ন ও ফতেহপুর ইউনিয়নের উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অফিস আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজারে যাতায়াতে ব্যাপক বিঘ্নতা ঘটছে।

কথা হয় উপজেলার সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে। তারা দ্রুত গোয়াইনঘাট উপজেলাকে বন্যা দূর্গত এলাকা ঘোষনার জোর দাবি জানান।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্ধি রয়েছেন। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাহমিলুর জানান, গোয়াইনঘাটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় এর নির্দেশনায় ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ আছে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। এছাড়া ২০ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান।