মনজুর আহমদ, গোয়াইনঘাট : ৩ দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল গোয়াইনঘাট উপজেলা ৷ তবে ১৪ মে শনিবার দুপুর থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। নিম্নাঞ্চল এখনও প্লাবিত রয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি গোয়াইনঘাটের পানিবন্দি মানুষের জন্য ২৪ টন চাউল বরাদ্ধ দিয়েছেন।

এদিকে এখনও উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রয়েছে। তাছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরো বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা সদর থেকে সিলেট শহরের সাথে একমাত্র সারী-গোয়াইনঘাট সড়কের লাফনাউট, আলীরগাঁও কলেজ, আলীরগ্রাম,বেকরা ব্রিকফিল্ডসহ সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি রয়েছে। এতে যানবাহন যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছে।

স্থানীয় একধিক লোকজন জানান, ইতিমধ্যে সারী-গোয়াইনঘাট সড়কের ৮কিলোমিটার রাস্তা পুর্ননির্মান হয়েছে এবং ৮ কিলোমিটার রাস্তা পুর্ননির্মান না করায় সড়কের ঐ অংশে বন্যা হলেই পানি উঠে। তাই অসম্পূর্ণ রাস্তার কাজ দ্রুত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানান এলাকাবাসী।

এদিকে গোয়াইনঘাট-রাধানগর সড়ক, গোয়াইনঘাট-সোনারহাট সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে পড়ায় উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তাছাড়া গোয়াইনঘাট-সালুটিকর সড়কের বেশ কয়েক স্থানে পানি উঠেছে। তাছাড়া গ্রামীন জনপদের সবগুলো রাস্তাঘাট এখনও বানের পানিতে নিম্নজ্জিত রয়েছে। অনেক এলাকায় অনেক ঘরবাড়ি পানির নীচে রয়েছে। পানির নীচে রয়েছে হাজার হাজার হেক্টর ক্ষেতের জমি ৷ যার ফলে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে ৷

বন্যার পানিতে কাটার বাকি অবশিষ্ট শতবাগ পাকা বুরোধান তলিয়ে গেছে ,যার ফলে চরম দূশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকগণ, এর মধ্যে আবার অনেকের ঘর বাড়িও তলিয়ে গেছে ৷ গত মাসে বুরো ধান কাটার মৌসুম শুরুতেই আকষ্মিক বন্যায় গোয়াইনঘাটের প্রায় ৫০%ধান নষ্ট হয়ে যায়। বাদবাকী বেচে যাওয়া ধান নিয়েই আশায় বুক বেধেছিলেন কৃষক৷ কিন্তু এবারের বন্যায় সেই আশাটুকুও অবশিষ্ট রইল না তাদের৷

সাবেক ইউপি সদস্য শামসুদ্দিন আল আজাদ জানান তোয়াকুল ইউনিয়ন সম্পন্ন বন্যার পানিতে নিম্নজ্জিত, বীরকুল্লি মনতলা বাজার রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তাহমিলুর রহমান জানান বন্যার পানিতে উপজেলার সিংহ ভাগ এলাকায় তলিয়ে গেছে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি মহোদয় ২৪ টন চাউল বরাদ্ধ দিয়েছেন। পানি না কমলে সরকারি ভাবে আরও সহায়তা বাড়ানোর কথা তিনি জানান।

জানতে চাইলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ বলেন বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, পানিবন্দি মানুষের সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নিচ্ছি এবং কিছু এলাকা পরিদর্শন করেছি।