গোয়াইনঘাট-সালুটিকর সড়কের দৃশ্য। ছবি: প্রতিনিধি

মনজুর আহমদ, গোয়াইনঘাট : গেল কয়েকদিন আগেও ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত ছিলো গোয়াইনঘাটের জনজীবন। সেই সমস্যা কাটিয়ে না উঠতেই উপজেলায় আবারও পানি উঠতে শুরু করেছে। এতে নিম্মাঞ্চলের মানুষের মাঝে নতুন করে আবারও ভয়াবহ বন্যার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের ফলে গোয়াইনঘাটের নদনদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এতেই জনমনে ফের শঙ্কা দেখা দিয়েছে বন্যা।

পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা হোসাইন আহমদ জানান, গত বন্যায় মানুষের অনেক ক্ষতি করে গেছে। আবারও বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। টানা বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটে পানি উঠে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বাড়ি থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় সহস্রাধিক হেক্টরের মত বোনা এবং আউস নিমজ্জিত রয়েছে।

এ ছাড়াও প্রচুর পরিমান সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত রয়েছে আরও ১৩০ হেক্টর।

তবে, টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ফসলি জমি নিমজ্জিত হওয়ার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকেই।

গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নদনদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেতে শুরু করছে। ডাউকি, সারী ও পিয়াইন নদীর পানি আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও এখনো নদনদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

টানা বৃষ্টিপাত ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই গোয়াইনঘাটের ডাউকি, সারি এবং পিয়াইন নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার সবক’টি ইউনিয়নে আবারও পানি উঠতে শুরু করেছে।

সারী-গোয়াইন, সালুটিকর-গোয়াইন রাস্তায় পানি উঠে উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায় কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রায়হান পারভেজ রনি বলেন, টানা বর্ষণে গতকাল পর্যন্ত উপজেলায় ৪৮০ হেক্টরের মত বোনা এবং আউস নিমজ্জিত রয়েছে।

এ ছাড়াও সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত রয়েছে ১৩০ হেক্টর।

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাহমিলুর রহমান জানান, গোয়াইনঘাটে নতুন করে আবারও পানি উঠতে শুরু করেছে। নিম্মাঞ্চলের মানুষদের আগে থেকেই সতর্ক করা হচ্ছে। এছাড়াও বিপদ সীমার নীচে নদনদীর প্রবাহিত হচ্ছে।