শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরের গোসাইরহাটরে মাছের খামার থেকে লোনা পানির একটি কুমির উদ্ধার করেছে খামারের জেলেরা। সোমবার গভীর রাতে উপজেলার আলওয়ালপুর ইউনিয়নের গাইমারা এলাকার একটি খামারে ফাঁদ পেতে জেলেরা কুমিরটি ধরে ফেলে।

বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কুমিরটিকে দেখতে অনেক দুর দুরান্ত থেতে উৎসুক জনতা ভীর জমায়। অনেকে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোষ্ট করে।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাফী বিন কবির কুমিরটি বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী অপরাধ ইউনিটের পরিচালক মোঃ সানাউল্লাহ পাটোয়ারির কাছে হস্তান্তর করে।

স্থানীয় ও জেলেদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, গোসাইরহাট উপজেলার গাইমারা এলাকায় ৫০ বিঘা জমির ওপর খলিল কাজী নামের এক ব্যক্তির একটি মাছের খামার রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের মাছ চাষ করা হয়। ওই খামারে গত শনিবার কুমিরটি দেখা যায়। এরপর গতকাল জেলেরা কুমিরটিকে ধরতে গর্তের মুখে ফাঁদ পেতে কুমিরটিকে শিকল ও দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলেন জেলেরা।

মাছের খামারের শ্রমিক সামাদ কাজী বলেন, ৭-৮ দিন আগে খামারের ভেতর বড় লেজের গুইসাপের মতো দেখতে পেয়েছিলাম। তখন গুইসাপ ভেবে গুরুত্ব দিইনি। তিন দিন পূর্বে খামারের পাড়ে বড় একটি গর্তে কুমিরের পায়ের ছাপ দেখতে পাওয়া যায়। গতকাল আমরা ওই গর্তের মুখে ফাঁদ পাতি। রাতে সেই ফাঁদে কুমির ধরা পড়ে। এরপর আমরা ঘটনাটি গোসাইরহাট থানায় জানাই।’ কুমিরটির দৈর্ঘ্য ফুট হবে।

আলওয়ালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওসমান গনি বলেন, ‘যে এলাকার মাছের খামারে কুমিরটি পাওয়া গেছে, তার থেকে অন্তত চার কিলোমিটার দূরত্বে মেঘনা নদী। দুই কিলোমিটার দূরত্বে খাল আছে। মাছের খামারে কীভাবে কুমির আসায় এলাকার মানুষ আতঙ্কিত। আমরাও দুশ্চিন্তায় পড়েছি।

বন্য প্রাণী অপরাধ ইউনিটের পরিচালক মোঃ সানাউল্লাহ পাটোয়ারি বলেন, এই কুমিরটি লোনা পানির কুমির। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মিঠা পানির স্তর কমে যাওয়ায় জোয়ারের লবনাক্ত পানির কারণে ২০০ কিলোমিটার অতিক্রম করে এখানে চলে এসেছে। এটি এখনও পরিপক্ক নয়। এটিকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রথমে খুলনার বয়রার রেসকিউ সেন্টারে পাঠানো হবে। সেখানে চিকিৎসার পড়ে সুন্দরবনের করমজলে নিয়ে কুমিরের ব্রিডিং সেন্টারে আমরা তাকে অবমুক্ত করবো।

গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাফী বিন কবির বলেন, কুমিরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮ ফুট। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রাথমিব ভাবে ধারণা করছেন এটি লোনাপানির কুমির। তবে এখানে আর কোন কুমির নেই বলে তারা আমাকে জানিয়েছে। কীভাবে লোনাপানির কুমির মিঠাপানির মাছের খামারে এল, তা তদন্ত করা হচ্ছে। এলাকাবাসীকে আতংিকত না হয়ে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।