কাজী খলিলুর রহমান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠি গাবখান সেতুর টোল উত্তোলন নিয়ে সড়ক বিভাগ ও ইজারাদার পক্ষের মধ্যে আইনী লড়াই ও নাটকীয়তা জমে উঠেছে। আদালতের নির্দেশে গত ২৭ জুলাই ইজারাদার ইসলাম ব্রাদার্স গাবখান সেতুর টোলের দায়িত্ব সড়ক বিভাগকে বুঝিয়ে দেয়ার ৩৪ঘন্টা পরে পুনরায় তার দলবল সেতুর টোল দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় শনিবার ৩০ জুলাই সকাল ১১টায় ঝলকাঠি সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপপ্রকৌশলী মোঃ হুমায়ীন কবির গাবখান সেতুর টোল (সরকারী রাজস্ব) জোর পূর্বক দখল করে নেয়ার বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বরিশাল-ঝালকাঠি-পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে ২২তম কিঃমিঃ (পৌরসভার পশ্চিম সীমান্তে) অবস্থিত চীন বাংলাদেশ ৫ম মৈত্রি গাবখান সেতুর টোল ইজারা নিয়ে জেলা জজ আদালতে চলমান মামলার রায় অনুসারে বিগত ২৭ জুলাই দুপুর ১২টায় ইজারাদার ইসলাম ব্রাদার্স লিঃ দায়িত্ব হস্তান্তর করলে ঝালকাঠি সওজ বিভাগ আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়িত্বভার গ্রহন করেন।

এরপর সড়ক বিভাগের কর্মচারীদের মাধ্যমে গাবখান সেতুর টোল আদায় চলমান থাকলেও হঠাৎ করে গত ২৮ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় (৩৪ঘন্টা পরে) সওজ কর্মচারীদের তাড়িয়ে দিয়ে সাবেক ইজারাদার ইসলাম ব্রাদার্স লিঃ এর দলবল গাবখান সেতুর টোল কার্যক্রম দখল করে নেয়।

টোল কার্যক্রম দখলের পর তাৎক্ষনিক দায়িত্বরত সড়ক বিভাগের উপপ্রকৌশলী সরকারী স্বার্থ রক্ষার্থে বিষয়টি লিখিত ভাবে ঝালকাঠি থানা পুলিশকে জানান। তবে দুদিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন না করায় ৩০ জুলাই শনিবার সদর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবরে পুনরায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সওজ বরিশাল, ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার সদর অবগত ও সাংবাদিকদের অভিযোগ কপি সরবারহ করেন।

ঝালকাঠি সদর ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হাসান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৭ জুলাই বুধবার দুপুর থেকে সড়ক বিভাগের কর্মচারীদের মাধ্যমে গাবখান সেতুর টোল আদায় চলমান থাকলেও হঠাৎ করে গত ২৮ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় (৩৪ ঘন্টা পরে) সওজ কর্মচারীদের তাড়িয়ে দিয়ে সাবেক ইজারাদার ইসলাম ব্রাদার্স লিঃ এর দলবল গাবখান সেতুর টোল কার্যক্রম দখল করে নেয়।

তবে ইজারাদার ইসলাম ব্রাদার্সের ঘনিষ্টদের দাবী, গাবখান সেতুর টোলের বৈধ ইজারাদার হিসাবে সে যেহেতু টোলের দায়িত্ব হস্তান্তর করেনি, সেখানে তার বিরুদ্ধে দখলে অভিযোগ করার কোন সুযোগ নেই।

এদিকে গত ২৮ তারিখ জজকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে মোঃ মনিরুল ইসলাম তালুকদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট ঝলকাঠি সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ৪মাসের রুলনিশি ও ষ্টাটোস্ক আদেশ দেয়ায় তারা বৈধভাবে গাবখান সেতুর টোল আদায় করছেন।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ খলিলুর রহমান জানান, সওজ বিভাগের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ আমাদের অবহিত করা হয়েছে। তবে বিষয়টি যেহেতু উচ্চ আদালতের সেখানে আমাদের কোন ভূমিকা নেই। এ ব্যাপারে তাদের আদালতের স্মরনাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।