পাইকারী কাপড়ের মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড       

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি : নগরীর বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র চান্দনা চৌরাস্তায় একটি বৃহৎ পাইকারী কাপড়ের মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়েছে। আগুনে আলোচিত হাজী আব্দুর রহিম পাইকারী কাপড়ের মার্কেটের দুই শতাধিক দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অগ্নিকান্ডের কবল থেকে তাদের কোনো মালামল ও ক্যাশবাক্সে রক্ষিত নগদ অর্থ রক্ষা করতে পারেননি। গত রোববার রাতে মার্কেট বন্ধ হওয়ার পর এ অগ্নিকান্ড ঘটে। এ সময় বহিরাগতরা উদ্ধারের নামে মার্কেটের মালামাল লুটে নেয় বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন। এ অগ্নিকান্ডে প্রায় ৮৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মার্কেটের সভাপতি আব্দুল মতিন দাবী করেছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, রোববার রাত ৮টায় যথারীতি তারা দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যান। এর পর রাত পৌনে ১০টায় মার্কেটে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে তারা মালামাল রক্ষার জন্য ছুটে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো মার্কেটে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের ভয়াবহতার কারণে তারা কোনো মালামাল ও ক্যাশ বাক্রসে রক্ষিত নগদ অর্থ উদ্ধার করতে পারেননি। দমকল বাহিনীর প্রায় তিন ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

সোমবার মার্কেটে গিয়ে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বিলাপ করছেন। কাজী গার্মেন্টসের মালিক জয় কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, টানা তিন দিন ব্যাংক বন্ধ থাকায় দোকানের ক্যাশ বাক্সেই বিক্রয়লব্দ টাকা রক্ষিত ছিল। নগদ অর্থসহ একটি সূতাও তিনি রক্ষা করতে পারেননি।

আরিয়ান বস্ত্রালয়ের মালিক আলমগীর হোসেন বলেন, আমার ক্যাশে রক্ষিত নগদ ৬ লাখ টাকাসহ প্রায় দেড় কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

ব্যবসায়ী আলমগীর শেখ বলেন, অগ্নিকান্ড শুরু হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর দমকল বাহিনীর কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছান। ততক্ষনে মার্কেটের ৫০০ দোকানের মধ্যে দুই শতাধিক দোকান পুড়ে যাই হয়ে যায়। দমকল বাহিনীর কর্মীরা মার্কেটের মূল ফটক খুলে দেয়ার পর মালামাল উদ্ধারের নামে ব্যাপক লুটপাট হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে জানান, মার্কেট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে এ অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের জন্য নিয়ম লঙ্ঘন করে মার্কেটের প্রতিইঞ্চি জায়গা ভাড়া দেয়া হয়েছে। এমনকি মার্কেটের ভেতরে স্বাভাবিক চলাচলের জায়গাও রাখা হয়নি। এসব ঘিঞ্জি দোকানপাটে মাকড়শাড় জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার। তদুপরি মার্কেটে ছিল না অগ্নিনির্বাপক কোনো ব্যবস্থা।

জিএমপি বাসন থানার ওসি আব্দুল মালেক খসরু খান জানান, মার্কেট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে শটসার্কিটের মাধ্যমে এ অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়েছে। আশপাশে পানির উৎস্য না থাকায় এবং মার্কেটে চলাচলের রাস্তাগুলো সরু হওয়ায় দমকল বাহিনী যথাসময়ে ঘটনাস্থলে পৌছাতে পারেনি।