গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি : স্থানীয় সংসদ সদস্য, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পরও চাঁদাবাজদের কবল থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না গাজীপুর মহানগরের বোর্ড বাজার এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সিটি করপোরেশনের নামে কথিত ‘টোল আদায়ের রশিদ’ ছাপিয়ে বোর্ডবাজারসহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশের ফুটপাথের চার শতাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রতিদিন মোটা অংকের চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।

ফুটপাথের কয়েকশ’ ব্যবসায়ী ও মার্কেট মালিকরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বোর্ডবাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চাঁদাবাজদের প্রতিরোধের জন্য জড়ো হন। এসময় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয় এবং ব্যবসায়ীদের ধাওয়া খেয়ে চাঁদাবাজরা পালিয়ে যায়।

মার্কেট মালিক আলী আকবর বুলু জানান, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের লোকজন সিটি করপোরেশনের নামে ফুটপাথের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী দোকানপ্রতি ৫০ থেকে দেড়শ’ টাকা করে চাঁদা আদায় করে। কেউ চাঁদা না দিলে চলে শারীরিক নির্যাতন।

দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা এসব অসহায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কান্না ও দুর্দশা দেখে পাশের মার্কেট মালিকরা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে হস্তক্ষেপ কামনা করেন। প্রতিমন্ত্রী অবিলম্বে চাঁদাবাজি বন্ধ করার জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে নির্দেশ দেন। অপরদিকে কেউ চাঁদা আনতে গেলে তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করার জন্যও গাছা থানার ওসি মার্কেট মালিকদের সহযোগিতা চান।

এর পরও বৃহস্পতিবার বিকেলে চাঁদাবাজরা সংঘবদ্ধ হয়ে চাঁদা উত্তোলন শুরু করলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। মূহুর্তের মধ্যে কয়েকশ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মার্কেট মালিকরা জড়ো হয়ে ধাওয়া দিলে চাঁদাবাজরা পালিয়ে যায়।

এদিকে সিটি করপোরেশনের নামে ফুটপাথের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আায়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন মন্ডল বলেন, মহাসড়কের পাশে কেন দোকান বসে আগে সেই রিপোর্ট করেন, তার পর আমার বক্তব্য দিব।

এ ব্যাপারে গাছা থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, নিষেধ করার পরও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে ব্যবসায়ী ও মার্কেট মালিকরা অভিযোগ করেছেন। চাঁদাবাজদের গ্রেফতারে অভিযান চলবে।