মোঃ রফিকুল ইসলাম, গাজীপুর প্রতিনিধি : ক্ষতিপূরণের দাবীতে গাজীপুর মহানগরের নবনির্মিত টঙ্গী বনমালা-সুকুন্দিরবাগ সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত জমি-বাড়ির মালিকরা। নগর কর্তৃপক্ষ জমি ও অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় মঙ্গলবার সড়কের ওপর সীমানা খুঁটি পুতে অবস্থান নেন ক্ষতিগ্রস্তরা। ফলে মঙ্গলবার সড়কটিতে চলাচলকারী মানুষ হঠাৎ দুর্ভোগের শিকার হন। পরে পুলিশ গিয়ে রাস্তার ওপর থেকে খুঁটি উপড়ে ফেলে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, জমি অধিগ্রহণ না করেই সম্পূর্ণ জোরপূর্বক বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে প্রায় ৬০ ফিট চওড়া নতুন রাস্তাটি নির্মাণ করেন গাসিক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণের দাবী জানালে তাদেরকে গাসিক কার্যালয়ে জমির কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয় এবং অবকাঠামো ভাঙ্গা বা অপসারণের প্রাথমিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেক জমি বা বাড়ির মালিককে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। মেয়রের আশ্বাসে ক্ষতিগ্রস্তরা জমির কাগজপত্র সিটি করপোরেশনে যথা সময়ে জমা দেন। কিন্তু পরবর্তীতে বার বার যোগাযোগ করেও তারা কোন সারা পাচ্ছেন না। বরং বিভিন্ন সভা সমাবেশে মেয়রের বক্তব্যে তারা হতাশ হয়েছেন।

মেয়র বিভিন্ন সময় ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে থাকেন, তিনি জনস্বার্থেই সাধারণ নাগরিকদের বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে রাস্তা করেছেন এবং মানবিক কারণে কিছু কিছু ক্ষতিগ্রস্তকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের ট্যাক্র মওকুফসহ তাদের সন্তানদের পড়ালেখা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু এসব আশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্তরা মেয়রের ভাওতাবাজি বলে মনে করছেন।

বনমালা রেল গেট এলাকার বৃদ্ধ মুসলিম মিয়া কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, সাড়ে তিন কাঠা জমির ওপর একমাত্র বাড়ি ভাড়ার টাকায় তার সংসার চলে। নগর কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাকে মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিয়ে পুরো বাড়িটি ভেঙ্গে দিয়েছে।

অপর বাড়ির মালিক মোস্তাফা জানান, তিন কাঠা জমির ওপর থেকে তার বাড়িটি ভেঙ্গে দিয়ে তাকে মাত্র ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পর তাদেরকে সিটি করপোরেশনে জমির কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়। তারা মেয়রের আশ্বাসে জমির কাগজপত্র জমা দিয়েও এখন আর কোন সাড়া পাচ্ছেন না।

এ ব্যাপারে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইাসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিানি বলেন, বনমালা রোডে অনেক আগেই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। ওই প্রকল্প এলাকায় জমি অধিগ্রহণের কোন বিধান ছিল ন।