খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণাথপুর ইউনিয়নে এক অজানা প্রাণীর আক্রমণে একজন নিহত ও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে।

প্রাণীটি কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় লোকজনের ওপর হামলা করলেও স্থানীয়রা কেউ প্রাণীটিকে ঠিক মতো দেখতে পাননি। ফলে গ্রামবাসীদের মধ্যে বিরাজ করছে ভয় আর আতঙ্ক ।

তারা কেউ অচেনা এই প্রাণীকে, তাদের ভাষায়, ‘পাগলা শিয়াল’, কেউ ‘হায়েনা’ কিংবা ‘নেকড়ে’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান নয়ন বলেছেন, যারা আহত হয়েছে তাদের জলাতঙ্ক রোগের টিকা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাণীটি কেমন তা কেউ দেখেনি। তবে স্থানীয়দের কথা শুনে এবং প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে মনে হচ্ছে এটি পাগলা শিয়াল হতে পারে।

তবে তিনি জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কাউকে আর আক্রমণের খবর তারা পাননি।

স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম ফেরদৌস সরকার গত ১৮ অক্টোবর মারা গেছেন। তিনি প্রায় ২০ দিন আগে হঠাৎ করে ওই প্রাণীটির আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন মাঠে ঘাস কাটার সময়।

তার চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে প্রাণীটি পালিয়ে যায়।

এরপর বেশ কিছুদিন নানা জায়গায় হুটহাট প্রাণীটির আক্রমণের শিকার হয়েছে অন্তত ১২ জন।

ফেরদৌস সরকারের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ফরিদা বেগম জানান, ২৯শে সেপ্টেম্বর দুপুরে গরুর বাছুরের জন্য ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন ভাই। সেখানে ধানক্ষেত আর বাঁশঝাড় ছিলো কাছে। হঠাৎ করেই এসে তাকে কামড়ে দিলো। আরেকজন একটু দূরে ছিলো তিনি এগিয়ে এসেছিলেন কিন্তু প্রাণীটিকে চিনতে পারেননি।

আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিলো তাকে। পরে জলাতঙ্ক টিকাও দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মারা যান তিনি।

স্থানীয় গ্রামবাসীরা বলছেন, ওই একই দিন আরো কয়েকটি জায়গায় প্রাণীটির হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ভয় আর আতঙ্কে সার্বক্ষণিক লাঠি বহন ছাড়াও সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হতেই ভয় পাচ্ছেন তারা।

তালুক কেওয়াবাড়ি এলাকার সাইদুর রহমানের স্ত্রী নাজমা বেগম বলছেন, তার প্রতিবেশী এক আত্মীয়ের ১২-বছর বয়সী বাচ্চার ওপর হামলা করেছিলো প্রাণীটি।

তিনি বলেন, প্রাণীটা হুট করে বের হয়। এখনো ধরা যায়নি। তাই সবসময় লাঠি সাথে রাখি। সন্ধ্যার পর ঘরে থাকার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষ দল বেঁধে চলাফেরা করছে এবং পাহারা দিচ্ছে।