মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : রংপুরের গঙ্গাচড়ায় কারিনা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পড়ে মুখে বিষ ঢেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার ভাই মোঙ্গলবার রাতে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে। উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের পূর্ব কচুয়া ডাঙাপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় তার স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার(১৫ সেপ্টেম্বর) মারা যাওয়া ওই গৃহবধূর নাম কারিনা বেগম (৩০)। তিনি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার লোকমানের মেয়ে। ২০১৫ সালে গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের শানদমিয়া ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মোহসিন হোসেনকে (৬০) বিয়ে করেন। এটা ছিল তাঁদের দ্বিতীয় বিয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর কারিনার নামে মোহসিন কিছু জমি লিখে দেন। মোহসিনের আগের স্ত্রীর দুই সন্তান রয়েছে। সন্তানেরা মোহসিনের দ্বিতীয় বিয়ে ও জমি লিখে দেওয়াকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি। তাঁরা কারিনাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে গ্রামে একাধিকবার সালিসও হয়েছে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কারিনা বাড়িতে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রচার চালান তাঁর সৎছেলে বাবলু মিয়া ও রাকিবুল ইসলাম। এর পর থেকে উভয়ে গা–ঢাকা দেন। খবর পেয়ে পুলিশ কারিনার লাশ বাড়ি থেকে রাতেই উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। মঙ্গলবার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কারিনার মা হাছিনা বেগম বলেন, ‘বাবা, ওরা (মোহসিন ও তাঁর দুই সন্তান) মোর মেয়েটাক গলা টিপে হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে দিচে। বিষ দিয়া মারি ফেলাইচে। মুই ওমার বিচার চাও রে, এ এভাবেই আর্তনাদ করতে দেখা গেছে তার মাকে।

গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার সরকার মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বলেন, কারিনার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বড় ভাই মোস্তফা মিয়া বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর স্বামী মোহসিন আলীকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে মোহসিনের আগের স্ত্রীর দুই সন্তান পলাতক। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।