হুমায়ুন কবির জুশান, কক্সবাজার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাকে কারাগারে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ দেয়ার পরও তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপ প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। এর আগে এই রাষ্ট্রপতির সাথে আরো দুই বার সংলাপ হয়েছিল। ওই সংলাপের পর গঠিত নির্বাচন কমিশন দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারেনি। এই দুটি কমিশন দেশের সবচেয়ে ঘৃণীত কমিশন।

তিনি সোমবার ৩ জানুয়ারি দুপুরে কক্সবাজারে বিএনপির সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর স্থানীয় একটি হোটেলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।

এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীমসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিএনপি ও যুবলীগের একই স্থানে সমাবেশকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করায় অন্য স্থানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে বিএনপি। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার শহরের ঈদগাঁও মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী।

এ সময় নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাতের আঁধারে ভোট কারচুপি ক্ষমতায় আসায় জনগণের প্রতি সরকারের আস্থা নেই। তাই বিএনপির সাংবিধানিক অধিকারও হরণ করছে তারা।

জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান বলেন, সরকার মানুষের সব গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আমাদের পূর্বনির্ধারিত জনসভাস্থলে যুবলীগের কর্মসূচি দেয়া তাদের হীনমানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, ১৪৪ ধারা অমান্য করে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করা বিএনপি নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান বলেন, বিএনপির সমাবেশের জন্য কোনো স্থানের অনুমতি নেই। কিন্তু বিএনপি সমাবেশ করার চেষ্টা করছে। তাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, জনসভা করতে না পেরে বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলা থেকে পথসভায় আসার পথে বাধাপ্রাপ্ত নেতা-কর্মীরা উপজেলা শহরেও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

এর আগে রাতে কক্সবাজার শহরে একই স্থানে বিএনপি ও যুবলীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। ফলে সোমবার ভোর থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কক্সবাজার শহরে অবস্থিত বিএনপি অফিস সংলগ্ন শহীদ সরণি সড়ক ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

রোববার সন্ধ্যায় ১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবু সুফিয়ান। ১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি রোবার রাতে শহরে মাইকিং করে জনগণকে জানিয়ে দেয়া হয়। সকাল থেকে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনেসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পাল্টাপাল্টি সমাবেশের কারণে আইনশৃংখলা পরিস্থতি স্বাভাবিক রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয় বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে কক্সবাজার শহীদ সরণি সড়কে সোমবার (৩ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় এই সমাবেশ ডেকেছিল কক্সবাজার জেলা বিএনপি। পরে একই জায়গায় কক্সবাজার জেলা যুবলীগ পাল্টা সমাবেশের ডাক দেয়।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো: হাসানুজ্জামান পিপিএম জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কক্সবাজার শহরের প্রবেশদ্বার থেকে পুরো শহরের প্রতিটি পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ভোর থেকে দায়িত্ব পালন করছে। শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে জেলা পুলিশের।