মেহেরপুর প্রতিনিধি : ১৩ জুনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ সহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা না হলে ১৫ জুনের মেহেরপুর পৌরসভার ভোট বর্জন করা হবে বলে হুমকী দিয়েছে হোটেল বাজার ব্যবসায়ী সমিতি। গত ৭ জুন মেহেরপুর সার্কিট হাউজ সড়কের পাশে মডেল মসজিদের সামনের ২৫ জন ব্যবসায়ীর দোকান ভেঙে তাদের উচ্ছেদ করে মেহেরপুর জেলা প্রশাসন।

১০ বছর আগে ওই মার্কেটটি নির্মাণ করে কোর্ট জামে মসজিদ কমিটি। ৮ জুন বুধবার বিকালে মেহেরপুর শহরের শিল্পকলা একাডেমী ভবনের সামনে আয়োজিত সাংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সমিতির সভাপতি আব্দুল হান্নান।

ঐ সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, হোটেল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ ইকবাল সিমন, সহ সভাপতি আব্দুল লতিফ, সদস্য রাশেদুজ্জামান, ইজহারুল ইসলাম প্রমুখ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কোর্ট মডেল মসজিদ মার্কেটের ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক ও তাদের পরিবারবর্গ।

জেলা প্রশাসক কর্তৃক কোর্ট মসজিদ মার্কেটে অবস্থিত ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে দেওয়া, নির্যাতন চালানো ও ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রতিবাদে এবং সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ব্যবসায়ী সমিতি।

হোটেল বাজার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তার বক্তব্যে বলেন, ২০০৬ সালে পদাধিকার বলে কোর্ট জামে মসজিদের সভাপতি তৎকালিন জেলা প্রশাসক তালুকদার সামসুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক সদর ইউএনও মিলে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে পাকা ঘর নির্মাণ করে ব্যবসায়ীদের দোকান ঘর বরাদ্দ দেন। ওই চুক্তিপত্রে মসজিদ কমিটির পক্ষে স্বাক্ষর করেন সদর ইউএনও। এতে যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে তারা করেছেন। বর্তমান জেলা প্রশাসক মার্কেটটি ভাঙ্গার ক্ষেত্রে প্রতিটি বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের সাথে মিথ্যাচার করেছেন। ডিসি সাহেব ব্যবসায়ীদের সাথে কোনো ধরনের আলাপ আলোচনা করেনি। বরং ব্যবসায়ীদের নেতৃবৃন্দ দোকানগুলো রক্ষা করার জন্য বারবার তার কাছে গিয়েছেন। তিনি কোনো ধরনের আলাপ আলোচনা ছাড়াই মাত্র আধা ঘন্টার মধ্যে পাকিস্থানী হানাদারদের মত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছেন।

সিমন অভিযোগ করে আরও বলেন, জেলা প্রশাসক মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বলেছেন ৬ মাস আগে থেকে ব্যবসায়ীদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তার এই মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ডিসির সাথে তাদের মাত্র ২৫ দিন থেকে আলোচনা চলছে। তবে গত ২০ ফেব্রুয়ারি দোকান ছেড়ে দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি নোটিশ করা হয়েছিল। কিন্তু এত স্বল্প সময়ের মধ্যে ২৫টি দোকানতো আর হুট করে সরিয়ে নেয়া যায়না। তাই সময়ের দাবী করা হয়েছিল। ৬ মাস আগে ডিসির স্বাক্ষরে প্রত্যেক দোকানদারের নামের সোনালী ব্যাংকে এ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। সেই একাউন্টেই দোকনদাররা দোকানভাড়া পরিশোধ করে থাকেন। এটা যদি অবৈধ মার্কেট হবে তাহলে উনার স্বাক্ষরে ব্যবসায়ীদের নামে ব্যাংক একাউন্ট খোলালেন কিভাবে?

সভাপতি আব্দুল হান্নান তার বক্তব্যে বলেন, মেহেরপুর হোটেল বাজারে ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবার এবং কর্মচারী মিলে কমপক্ষে ১০ হাজার ভোটার রয়েছে। ১৩ জুনের মধ্যে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থার বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান না হলে সকল ভোটার ১৫ জুনের পৌরসভা নির্বাচনে ভোট দান থেকে বিরত থাকবে।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের ক্ষতিপুরণ দাবীর সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে আগামী ৫ দিনের কর্মসূচী ঘোষণা করেন ব্যবসায়ী সমিতি।

কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে ৯ জুন ভিক্ষার থালা হাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান, ১০ জুন কোর্ট জামে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত, ১১ জুন সকাল ১১ টায় দোকান বন্ধ রেখে কালো পতাকা ধারণ করে ২৫ মিনিট অবস্থান, ১২ জুন, সকাল সাড়ে ১০ টার সময় কাফনের কাপড়সহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ, এসব সমাধান না হলে ১৩ জুন থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচী পালনসহ, ১৪ তারিখে ধর্মঘট ও ১৫ তারিখে ভোট বর্জন করা হবে।

উল্লেখ্য, মেহেরপুর জেলার সার্কিট হাউজ রোডে মডেল মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধিকরণ এবং সরকারী খাস জমিতে এতদিন কোনো মার্কেট থাকতে পারেনা এমন কারণ দেখিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত ৭ জুন সকালে মার্কেটের ২৫ টি দোকান উচ্ছেদ করে জেলা প্রশাসক।