তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলের প্রতিবাদে ৮৫ জন কৃষক স্বাক্ষরিত লিখি অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের বীনাজুড়া গ্রামের পল্লী বিদ্যুতের আওতায় ২’শতাধিক কৃষক পরিবারের পক্ষে, সন্নাসী নিরদ সরকার, কৃষক সুজিত পরকায়স্থ, আরাধন তালুকদার ও রিপন সরকার সহ ৮৫ জন কৃষক গ্রাহক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলাধীন ৩নং ফেনারবাঁক ইউনিয়নের বিনাজুরা গ্রামের প্রায় ২’শত টি কৃষি নির্ভরশীল পরিবার আছে। সুনামগঞ্জের ভাটি অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্ধা তারা। বিগত প্রায় ১বছর প‚র্বে গ্রামবাসী পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আসেন। গ্রামবাসীর প্রতিটি ঘরেই ২-৩ টি বাতি এবং কোন কোন পরিবারে ২-১টি ফ্যান চলে।

প্রথম অবস্থায় তাদের মাসিক বিদ্যুৎ বিল শীতকালে কমপক্ষে ১৫০-২০০ টাকা আসতো। গরম কালে সর্বোচ্চ-২৫০-৩৫০ টাকা বিল আসে। ইদানিংকালে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন সরেজমিনে যাচাই না করেই মনগড়া কয়েক গুন বেশী বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করেন। প্রতিটি পরিবারের বিদ্যুৎ বিল ৩-৪গুন বৃদ্ধি পেয়ে ৮০০-১৪০০ টাকা পর্যন্ত আসছে। গ্রামের গরীব অসহায় লোকজনকে বিদ্যুত বিভাগের লোকজন বিদ্যুতের লাইন কেটে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ধারদেনা করে পরিশোধ করতে বাধ্য করেছেন।

এই গ্রামের অধিকাংশ লোকজন গরীব, কৃষি কাজ করেই নিম্ন আয়ের মানুষ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়ার পথে। অভিযোগে গ্রামবাসী আরো উল্ল্যেখ করেন, ভবিষ্যতে যদি এরকম ভুতুরে বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করেন তাহলে গ্রামবাসী বিদ্যুৎ লাইন কর্তন করে বিদ্যুৎ ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন। অভিযোগের কপি, সদয় অবগতির জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রণালয়, জেনারেল ম্যানেজার, সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে অনুলিপি প্রেরণ করেন।

জামালগঞ্জ উপজেলা বিদ্যুত বিভাগের স্টেশন কর্মকর্তা মো: রবিউল আলম কে বার বার ফোন দিলে তার মোবালই ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত দেব বলেন, গ্রামবাসীর অভিযোগ পেয়েছি। বিদ্যুত বিভাগের সাথে বিষয়টি আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আল-আজাদ বলেন, জামালগঞ্জে এই বিদ্যুত বিল নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ পাচ্ছি। বিষটি অত্যন্ত দু:খ জনক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান দেশ আলোকিত করতে। যারা সরেজমিন পরিদর্শন না করে এমন মনগড়া বিদ্যুত বিল গ্রেরণ করেব তাদের বিরোদ্ধে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। জেলা সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে অনোরুধ করবো।

সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ব্যবস্থাপক সুজিত কোমার বিশ্বস বলেন,গরমে মিটার বেশী ব্যবহৃত হতে পারে এ জন্য বিল বেশী আসতে পারে। তবোও মিটার চেক করে বিষটি গ্রুরুত্বের সাথে দেখা হবে।