ময়নুল হক পবন : মৌলভীবাজারে কুলাউড়ায় তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টাকারী আব্দুল আলী (৪০)কে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টম্বর) বিকেল ৪টার দিকে হাজিপুর ইউনিয়নের ভুইগাঁও গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আব্দুল আলী পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আমলী গ্রামেন মৃত জব্বার আলীর ছেলে।

কুলাউড়া থানার ওসি তদন্ত মোঃ আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলায় আরোও যারা আছেন তাদেরকে গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জানা যায়, ওই রাতেই সালিশে বসেন স্থানীয়রা। আর সেখানেই ধর্ষণ চেষ্টায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মেয়েটির ‘মানহানির’ মূল্য বাবদ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।।

সালিশকারীদের দাবি, মেয়েটির যে ‘মানহানি’ হয়েছে, সেটির মূল্য হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, জরিমানার অর্থ পরিশোধের জন্য সেই ব্যক্তিকে পাঁচ মাস সময়ও দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নে ঘটেছে।

মেয়েটির প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নেহার বেগম। তিনি জানান, ভিকটিমের মা উনার বাসায় কাজ করেন। তার বাবা নেই। রোববার দুপুরে মেয়েটির মা বাড়িতে ছিলেন না। সেই সুযোগে প্রতিবেশী একজন মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছে মেয়েটি।

ঘটনাটির সালিশকারীদের একজন তৈয়ব আলী। তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর স্থানীয়রা সালিশে বসেছিল। তখন ওদের (ভিকটিমের পরিবার) বলা হয়েছিল, আপনারা যদি আইনের আশ্রয় নিতে চান, তাহলে সেটা নিতে পারেন। অথবা বিষয়টি এলাকায় শেষ করতে পারেন। তার (মেয়েটির) যে মানহানি হয়েছে, সেই মানহানির মূল্য হিসেবে তাকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর ২১শে অক্টোবর ধর্ষণের ঘটনা মীমাংসায় সালিশ ফৌজদারি অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হবে না কেন জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে তৈয়ব আলীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমরা তো তাদের বলছি, আপনারা আইনের আশ্রয় নেন, সমস্যা নেই। ভিকটিম যদি আইনের আশ্রয় না নেয়, কেউ তো তাদের ধরে নিয়ে আইনের আশ্রয় দিতে পারবে না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মীমাংসাকালে ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে ওই তরুণী ও সালিশকারীদের স্বাক্ষর রাখা হয়েছে।