কুলাউড়া-বরমচাল রেলপথে পানি, ট্রেন চলাচল বন্ধের আশংকা

ময়নুল হক পবন, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) : গত ৫/৬ দিন কুলাউড়ার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলেও মঙ্গলবার রাতের বেশিরভাগ সময় বৃষ্টিপাত হওয়ায় কুলাউড়ায় বন্যার পানি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বরমচাল ইউনিয়নের ফানাই-আনফানাই নদী এলাকায় ফানাই ব্রিজের মধ্যবর্তী স্থানে রেললাইনে বন্যার পানি উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বরমচালের ফানাই-আনফানাই নদীর মধ্যবর্তী এলাকার ওই স্থানের প্রায় ২শ’ ফুট রেললাইনে সোমবার বিকেল থেকে পানি উঠতে শুর করে। এখন সময় যতই যাচ্ছে ততই বাড়ছে পানি। ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে ওই স্থানের রেললাইন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই স্থানে যেভাবে বন্যার পানি বাড়ছে তাতে এখন গতি কমিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পানি বাড়তে থাকলে সারাদেশের সাথে সিলেট অঞ্চলের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ সংশ্লিষ্টরা।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টা) কম স্পিডে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে রেল সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে পৌর এলাকায় পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় নজিরবিহীন দূর্ভোগে পড়েছেন শহরের মানুষজন। বিশেষ করে হাসপাতালে প্রবেশের রাস্তায় কোমরপানি,উপজেলা কমপ্লেক্সে যাওয়ার পথে কোমর পানি থাকায় এ দুইটি সেবামূলক অফিসে যেতে রোকজনকে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছেন।

এ ছাড়া বেশি দূর্ভোগে পড়েছেন ভুকশিমইল ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার অধিবাসী। এ ইউনিয়নের ১০ ভাগ জায়গা পানির নীচে। এক ইঞ্চিও জায়গা নেই সমতল। সবকিছুই পানির নীচে। মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশু নিয়ে চরম বেকায় পড়েছেন হাকালুকি হাওর পারের এ ইউনিয়ন ভুকশিমইল ইউনিয়নের লোকজনকে।

ভুকশিমইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির জানান, ভুকশিমইল শতভাগ বন্যা কবলিত। কিন্তু আক্রান্ত মানুষের মধ্যে সরকারী ত্রান একেবারেই অপ্রতুল। তবে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনওসহ সকলেই আন্তরিকতার সহিত আমার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পক্ষে দাড়িয়েছেন।

এ ছাড়াও পৌর এলাকার বিহালা, সোনাপুর, উত্তরমাগুুরা, টিটিডিসি এরিয়া, সদর ইউনিয়নের বন্যা আশ্রয় শিবির এলাকা, কাদিপুর, ব্রাম্মনবাজার, বরমচাল, ভাটেরা, জয়চন্ডি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে কুলাউড়া প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শিমুল আলী জানান, সরকারী বরাদ্দ যা পাওয়া যাচ্ছে সাথে সাথে বিতরণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৭৫মে:টন চাল, নগদ ২ লক্ষ ২০ টাকা বরাদ্দ বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের নামের তালিকাও সংগ্রহ করা হচ্ছে।