কুলাউড়ায় কলেজে শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় আটক রাশেদ চৌধুরী।

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের এক সহকারী অধ্যাপিকাকে বাড়ি মালিক কর্তৃক সন্ত্রাসী চামলা চালিয়ে আহত করার প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। শনিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। শিক্ষার্থীরা কুলাউড়া-রবিরবাজার সড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ অবস্থান নেয়। পরে পুলিশ হামলাকারীকে আটকের পর অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, শুক্রবার (১২ আগস্ট) রাতে কলেজ শিক্ষিকা নাজমা বানু ও তার স্বামীকে তাদের বাড়িওয়ালা রাশেদ চৌধুরীর মারধরের অভিযোগে কুলাউড়া থানায় মামলা করা হয়। লংলা কলেজের যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক নাজমা বানু প্রায় ছয় বছর ধরে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কলেজের সামনের ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন। স¤প্রতি বাড়িটি মালিকপক্ষের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যাওয়ায় ওই বাড়ির একাংশের মালিক রাশেদ চৌধুরী শিক্ষিকা নাজমা বানুর ফ্ল্যাটের পানির লাইন বন্ধ করে দেন।

এ নিয়ে শুক্রবার রাতে রাশেদ ও শিক্ষিকার পরিবারের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে রাশেদ শিক্ষিকা নাজমা বানু ও তার স্বামীকে মারধর করেন। এতে নাজমার মাথা ফেটে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। রাতেই স্বামী আবদুল মতলিব বাদী হয়ে রাশেদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।

এদিকে শিক্ষিকাকে মারধরের খবরে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা শনিবার সকালে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় কুলাউড়া-রবিরবাজার সড়কে অবরোধ করেন তারা। পরে কুলাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে উপস্থিত হন। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত রাশেদ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করলে শিক্ষার্থীরা তাদের অবরোধ তুলে নেয়।

কুলাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই ওই শিক্ষিকার স্বামী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ঘটনায় জড়িত রাশেদ আত্মগোপনে ছিল। শনিবার দুপুর ১টায় রাউৎগাঁও ইউনিয়নের পালগ্রাম থেকে প্রেপ্তার করা হয়েছে। আর শিক্ষার্থীদেরকে বুঝিয়ে সেখান থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে।