মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১০টার সময় করোনা উপসর্গ নিয়ে রোকেয়া বেগম (৩২) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ ভুল চিকিৎসায় নারীর মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়, করোনা উপসর্গ নিয়ে গত শনিবার রাত ১টার সময় রোকেয়া বেগমকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রোববার তাঁকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান । সে টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের মো. শাকিল মিয়ার স্ত্রী। অপর দিকে রোকেয়ার মৃত্যুর জন্য হাসপাতালটির এক নার্সের বিরুদ্ধে ভুল ওষুধ সেবন করানোকে দায়ী করেছেন স্বামী শাকিল মিয়া।

তিনি জানান, তিনি একজন পোশাক শ্রমিক। বোরবার দুপুরে হাসপাতালের এক নার্সের সঙ্গে তাঁর বাক-বিতন্ডা হয়। রোববার সন্ধ্যা ৭টায় স্ত্রী রোকেয়াকে ভালো রেখে বাড়ী চলে যান। রাতে হাসপাতাল থেকে তাঁকে মুঠোফোনে কল দিয়ে হাসপাতালে আসতে বলা হয়। তিনি রাত ১০টার দিকে হাসপাতালে আসেন।

পরে কর্তব্যরত এক নার্স তাঁকে রিওয়াট একটি সিরাপ আনতে স্লিপ ধরিয়ে দেন। তিনি কুমুদিনী ফার্মেসি থেকে ১২০ টাকা দিয়ে সিরাপটি নিয়ে নার্সকে বুঝিয়ে দেন। সিরাপটি খাওয়ানোর সাথে সাথে মুখ বাকা হয়ে মুহূর্তের মধ্যেই তার স্ত্রী মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কুমুদিনী হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের চিকিৎসক ডা. মাসুদুর রহমান জানান, রোকেয়া বেগমকে করোনা উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তাঁর চিকিৎসা চলছিল। রোগীর পায়খানা শক্ত হলে রিওয়াট সিরাপ দেওয়া হয়। তবে রোকেয়ার চিকিৎসাপত্রে রিওয়াট সিরাপটি কে দিয়েছে আমার জানা নেই।

কুমুদিনী হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডাঃ আলী হাসান জানান, বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে । অভিযুক্ত নার্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।