আরফাত বিপ্লব, চট্টগ্রাম : দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নিদের্শের পরও কারা অভ্যন্তরে ডিভিশন মিলেনি জামায়াত ইসলামীর দুই সাবেক সাংসদ’র। গত ছয়মাস আগে ওই দুই সাংসদের পক্ষে ডিভিশন চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন তাদের আইনজীবী। দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালত আবেদনকারী এই সাংসদদের ডিভিশন দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

এরমধ্যে একজন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর, চট্টগ্রাম-১৫ তথা সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনম শামসুল ইসলাম এবং অপরজন ওই একই আসনের আরেক সাবেক সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর জায়ামাতের নায়েবে আমির আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী।

সাবেক এই দুই সাংসদের আইনজীবী মনজুর আহমদ আনছারির অভিযোগ, আদালতের এই নির্দেশের পরও ডিভিশন না দিয়ে তাদেরকে সেলের মধ্যে নির্দয় কষ্ট দিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম কারাগার কর্তৃপক্ষ। অথচ কারাবিধি অনুযায়ি সাবেক যেকোনো সাবেক এমপিকে কোনো আবেদন-নিবেদন ছাড়াই কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কারারুদ্ধ হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময় আবেদন করার পরও কারা কর্তৃপক্ষ ডিভিশন না দেওয়ায় পরে তাদের পক্ষে ডিভিশন চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়। রিটের শুনানী শেষে আদালত কারাবিধি অনুযায়ি তাদেরকে ডিভিশন দেওয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে এডভোকেট আনছারি বলেন, উচ্চ আদালত নির্দেশ দেওয়ার পর প্রায় ছয় মাস গত হতে চলেছে। কিন্তু দীর্ঘ এই সময়েও চট্টগ্রামের জেলার আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।
সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী আরমান উদ্দিন বলেন, ‘কাগজপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব মহলে বারবার যোগাযোগ করলেও সাবেক এমপিদ্বয়কে সেল থেকে ডিভিশনে দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। দুজনই বয়োবৃদ্ধ এবং অসুস্থ। সেলে থাকতে তাঁদের কষ্ট হয়। এটা একধরনের হয়রানি ও নিপিড়ন।’

এই বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র কারা তত্ত্বাবধায়ক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আমি বেশ কিছুদিন ছুটিতে ছিলাম। এ ধরনের কোনো চিঠি এসেছে বলে আমার নজরে পড়েনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

প্রসঙ্গত, সাবেক এমপি মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম ও শাহজাহান চৌধুরী বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলার আসামী হয়ে দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। অনতিবিলম্বে তাদেরকে কারাবিধি অনুযায়ী সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার দাবী জানিয়েছে তাদের পরিবার।