রাঙামাটি প্রতিনিধি : নৌ-পুলিশ কাপ্তাই হ্রদে অভিযান চালিয়ে মাছ শিকার বন্ধ মৌসুমে চোরা শিকারীদের ৩ লাখ মিটারের বেশি নিষিদ্ধ জাল আটক করেছে। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ ঘন্টার বিরামহীন অভিযানে পুলিশ এতো বিপুল পরিমাণ জাল আটকে সক্ষম হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাপ্তাই হ্রদে নিষিদ্ধ মৌসুমে মাছ শিকার বন্ধে অভিযানে নেমেছে নৌ পুলিশ।

সোমবারে কাপ্তাই হ্রদে অভিযান পরিচালনাকালে মশারী জাল, কারেন্ট জালসহ প্রায় তিন লাখ মিটারের বেশি নিষিদ্ধ জাল উদ্ধার করা হয়। যা হ্রদের জলে পাতানো অবস্থায় ছিলো।

অভিযানকালে কচুরিপানা দিয়ে বিশেষ কায়দায় বানানো বেশ কয়েকটি অবৈধ জাকও ভেঙ্গে দেয়া হয়। নৌ-পুলিশের অভিযান চলার বিষয়টি টের পেয়ে চোরা শিকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

কাপ্তাই হ্রদের সুবলং এলাকায় কমবেশী ৩ ঘন্টা স্থায়ী এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন, নৌ-পুলিশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোঃ মোমিনুল ইসলাম ভুৃঁইয়া। কাপ্তাই হ্রদে অভিযান চলাকালে রাঙামাটি সদর ও বরকল থানার মধ্যবর্তী এই এলাকা হতে অবৈধভাবে পাতানো ও ব্যবহৃত কারেন্ট জাল, মশারী জাল, সুতার জাল মিলিয়ে ৩ লাখ মিটারের বেশি নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়।

এ ছাড়াও অভিযানিক টীম বৃহৎ আকারের মাছের ঝোঁপ ও জাক ভেঙ্গে অপসারণ করে। অভিযানে রাঙামাটি সদর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইরফানুর রহমানসহ নৌ পুলিশের সদস্যরা অংশ গ্রহন করেন।

কার্প জাতীয় মাছের প্রজনন, উৎপাদন ও বংশ বৃদ্ধির জন্য কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য শিকার, পরিবহন, বিপনন তিন মাসের জন্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকাকালীন সময় চোরা শিকারীরা হ্রদে জাল দিচ্ছে এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নৌ-পুলিশের এই অভিযান চালায়।

বিশেষ এই অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ সুপার মোঃ মুমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সময় মতো সঠিক তথ্য পেলে, এধরনের বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব। অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে যোগ করেন এ কর্মকর্তা।