প্রতীকি ছবি

এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, নওগাঁ : লাশ দাফন করা হবে। কাফনের কাপড় পড়িয়ে প্রস্তুুত করা হয়েছে। দাফনের সময়ও নির্ধারণ করে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করেই রাতে পুলিশ এসে পৌঁছে যায়। অতপরঃ আর স্বপ্না বিবি(৪৩) লাশ কোনভাবেই দাফন করতে অনুমতি দেয়া হলো না পুলিশের পক্ষ থেকে।

কোথায় ও কিভাবে মারা গেল স্বপ্না বিবি? এ নিয়ে চলতে থাকে অনেক জল্পনা-কল্পনা ও নানাধরণের অসংখ্য গুজ্ঞরনের ডালপালা। ঘটনাটি নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার একডালা ইউনিয়নের নগর পাঁচুপুর সিকদার পাড়া গ্রামে। স্বপ্না বিবি ওই গ্রামের গার্মেন্টস শ্রমিক মমতাজ উদ্দিনের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বপনার স্বামী মমতাজ উদ্দিন দীর্ঘ দিন ধরে ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত । তার দুই মেয়ে রয়েছে। মেয়েদের কে বিয়ে ও দিয়ে দিয়েছেন। স্বপনা নিজেও স্বামীর সাথে ঢাকায় থাকতো। কিন্তু প্রায় এক বছর হলো বাড়িতে একাই থাকেন স্বপ্না বিবি।

সোমবার দুপুর অনুমান আড়াইটার দিকে হঠাৎ করেই গ্রামের লোকজন জানতে পারেন স্বপ্না বিবি মারা গেছেন। নানান রকম রোগ ব্যধি থাকার কারনে কেউ জানতেও পারেনি কিভাবে মারা গেলেন তিনি। বিকেলে লাশ ধৌত করে কাফন পড়িয়ে দাফনের জন্য প্রস্তুুত করে রাখা হয়। স্বপ্নার আত্মীয়-স্বজনসহ সবাইকে খবর দেয়া হয় স্বপ্না মারা গেছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় দাফন করা হবে।

খবর পেয়ে স্বামী মমতাজ রাতেই ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকেই নানা রকম কাঁনা-ঘোষা শুরু হয় স্বপ্নার মৃত্যু নিয়ে। চলতে থাকে নানা রকম জ্বল্পনা-কল্পনা। এরই মধ্যে রাত অনুমান ১০টা নাগাদ পুলিশ আসলে সবাই চমকে যায়।

পরে সবাই জানতে পারেন স্বপ্নার গলায় রশির দাগ রয়েছে। কিন্তু তখনও কেউ জানেনা স্বপ্না আত্মহত্যা করেছেন নাকি তার মৃত্যুটা অন্যভাবে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সকালে স্বপ্নার স্বামী মমতাজ রাণীনগর থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করেন।

এরপর মঙ্গলবার দুপুরে সদর সার্কেল রাকিবুল হাসান ও রাণীনগর থানার ওসি শাহিন আকন্দসহ পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

স্বপ্নার বড় মেয়ে কাকলি আকতার বলেন, তিনি মাকে দেখতে শনিবার দিন বেড়াতে এসেছেন। সোমবার দুপুরে গোসল করার পর দেখতে পান সদ্য নির্মিত ইটের ঘরের তীরের সাথে গলায় রশি দিয়ে ঝুলে আছেন। সাথে সাথে লাশ নামিয়েছেন। কিন্তু রশি দিয়ে ঝুলিয়ে থাকার কথা কাউকে বলেননি। উপরা ব্যরাম (জীন-পরির আছর) থাকার কারনে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

স্বপ্নার স্বামী মমতাজ বলেন, সোমবার বিকেল তিনটার সময় মোবাইল ফোনে তার স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে রাতেই ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছি। কিন্তু গলায় দড়ি দিয়ে আমার স্ত্র্রী আত্মহত্যা করেছে এমনটা কেউ বলেনি। পরে পুলিশ আসলে জানতে পারি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

স্বপ্নার ছোট ভাই সাদেকুল ইসলাম লিটন বলেন,বোনের মৃত্যুর খবর পেয়ে রাতেই চলে এসেছি। কিন্তু কোনভাবেই জানতে পারিনি বোনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। রাতে পুলিশ আসলে জানতে পারি স্বপ্নার মৃত্যুটা আসলে স্বাভাবিক ছিলনা।

প্রতিবেশি রওশন আরা বলেন, স্বপ্না ডায়াবেটিকসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। আমরা জানি রোগের কারণে স্বপ্নার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু রাতে কানা-ঘোঁষার পর পুলিশ আসলে জানতে পারি তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি।

রাণীনগর থানার ওসি শাহিন আকন্দ বলেন, অস্বাভাবিক মৃত্যুটাকে আড়াল করে লাশ দাফনের চেষ্টা করেছিল পরিবারের কতিপয় সদস্য। এ ঘটনায় স্বপ্নার স্বামী একটি ইউডি মামলা দায়ের করেছেন। মৃত্যুর সঠিক কারন জানতে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।