কাতার ফুটবল বিশ্বকাপে প্রথম লালকার্ড পেলেন ওয়েলসের হেনেসি   

খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : কাতার ফুটবল বিশ্বকাপে চলছে এশিয়ান ঝলক, এশিয়ার প্রতিনিধিদের রূপকথা। সৌদি আরব, জাপানের পর এবার ইরান। বিশ্বকাপের নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েলসকে ২-০ গোলে হারিয়ে দিল ইরান। গোল করলেন রুজবে চেশমি এবং রামিন রেজিয়ান। দু’টি গোলই হয়েছে অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষদিকে। এ সময় ওয়েলসের মূল গোলকিপার লাল কার্ড দেখে বেরিয়ে যাওয়ার পর।

কাতারে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে লালকার্ড পেলেন ডব্লিউ হেনেসি। শুক্রবার ইরানের বিপক্ষে ফাউল করে লালকার্ড দেখেন ওয়েলসের গোলকিপার হেনেসি।

খেলার ৮৬তম মিনিটে ডব্লিউ হেনেসি নিজের সীমানা থেকে বেরিয়ে এসে নিয়মবহির্ভূতভাবে ইরানের এক খেলোয়াড়কে আঘাত করায় তাকে এ লালকার্ড দেখান রেফারি।

সেই সময় ইরান ফুটবল দলের স্ট্রাইকার মেহেদী তারেমি বল দখল করতে গেলে ওয়েলসের গোলরক্ষক হেনেসিও এগিয়ে আসেন।

এ সময় তিনি ডিবক্স থেকে অনেকটা বেরিয়ে গিয়ে বলের উদ্দেশ্যে উড়ন্ত কিক দিতে গেলে তারেমির সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়। হেনেসির ডান পায়ের বুটের নিচের অংশ তারেমির চোয়ালে গিয়ে আঘাত করে।

এ ঘটনায় রেফারি দ্রুত তাকে হলুদ কার্ড দিয়ে সতর্ক করে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) শরণাপন্ন হয়ে লালকার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।

সেই লালকার্ড দেখার আগ পর্যন্ত ইরান-ওয়েলসের খেলার গোলশূন্য ড্র ছিল। নির্ধারিত সময়েও কোনো গোল হয়নি। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

ম্যাচের গতির বিপরীতে আক্রমণ করে হঠাৎই গোল করে দেয় ইরান। নিজেদের অর্ধে বল ক্লিয়ার করে সতীর্থকে পাস বাড়িয়েছিলেন রবার্টস। তার থেকে বল কেড়ে নেন গোলিজাদেহ। সর্দার আজমুনের সঙ্গে পাস খেলে আক্রমণে উঠতে থাকেন। এক দম শেষে পাস বাড়ান আজমুনকে। আজমুনের সামনে সুযোগ ছিল নিজেই শট নেওয়ার। কিন্তু তিনি গোলিজাদেহকে পাস দিতে যান। গোলিজাদেহ বল জালে জড়ালেও সাদা চোখেই বোঝা গিয়েছিল তিনি অফসাইড। রেফারি ভার-এর সঙ্গে কথা বলে গোল বাতিল করে দেন।

এর পর দু’দলই একে অপরকে আক্রমণ করতে থাকে। কিন্তু কেউই গোলের মুখ খুলতে পারছিল না। শেষ দিকে নুরুল্লাহির পাস থেকে আজমুন আবার গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে কাজে লাগাতে পারেননি। তবে আজমুনকে নামানোয় এ দিন ইরানের আক্রমণ ভাগ অনেক শক্তিশালী লেগেছে।

অতিরিক্ত সময়ের অষ্টম মিনিটে ডি বক্সের অনেক দূর থেকে নেওয়া জোড়ালে শটে গোল নিশ্চিত করেন রুজবেহ চেশমি। ঠিক দুই মিনিট ব্যবধানে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রামিন।

খেলার একেবারে শেষ সময়ে জোড়া গোল খেয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাওয়া ওয়েলস প্রতিশোধের কোনো সুযোগই পায়নি। যে কারণে ম্যাচের শুরু থেকে দুর্দান্ত খেলেও পরাজয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।