কাজী খলিলুর রহমান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিতালী। বয়স মাত্র ১৬ বছর। কয়েকদিন ধরে পরিবার থেকে চলছে বিয়ের কথা। মিতালী রানী তার বাল্যবিয়ের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানালে তিনি ওই ছাত্রীর পরিবারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে তার পরিবার সায় না দিয়ে মেয়ের বিয়ের আয়োজন চালিয়ে যান।

পরে গত বৃহস্পতিবার মিতালী রানী প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে গেলে সহকারি প্রধান শিক্ষকের মোবাইলে তার মা ফোন করে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে বলেন। সহকারি শিক্ষক রোমেনা আক্তার এ বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানান। তিনি ওই শিক্ষার্থীকে অফিস কক্ষে ডেকে বাড়িতে যাওয়ার কথা জিজ্ঞেস করলে ওই শিক্ষার্থী বাল্যবিয়ের কথা স্বীকার করে এবং আজ ১৬ মে সোমবার আমাকে দেখতে আসবে বলে জানান।

বিবাহ যাতে না হয় সে বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করেন। ঘটনাটি ঘটে ঝালকাঠির কাঠালিয়া সদর ইউনিয়নের আমরিবুনিয়া গ্রামে। ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় আমরিবুনিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী। মিতালী রানী আমরিবুনিয়া গ্রামের কমল ভক্তে মেয়ে।

এসময় প্রধান শিক্ষক মো. লিয়াকত আলী জমাদ্দার বিয়ের বিষয়ে মিতালীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করলে তখন তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে মিতালীর বাড়ি গেলে বিয়ের জন্য ছেলে মেয়ের দেখাদেখির পর্ব শুরু করে দুই পরিবার। তখন মোবাইলে মিতালীর এক বান্ধবী প্রধান শিক্ষককে জানালে তিনি তাৎক্ষনিকভাবে এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ফয়সাল আহম্মেদ ও মিতালীর সহপাঠীদের নিয়ে তার বাড়িতে যান এবং ছেলে পক্ষের লোকজন দেখতে পান।

এ সময় তাদেরকে বাল্যবিয়ের কুফল ও আইন সম্পর্কে বুঝালে তারা দুই পরিবার তাদের ভ‚ল বুঝতে পারে এবং মিতালী প্রাপ্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবে না বলে অঙ্গীকার করেন।

প্রধান শিক্ষক মো. লিয়াকত আলী জমাদ্দার বলেন, আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাল্যবিয়ের বিষয়ে খুব সজাগ। প্রতিটি মেয়েকে বাল্যবিয়ের বিষয়ে কুফল সম্পর্কে বুজিয়ে সপথ পাঠ করিয়েছি। এবং আমার প্রতিষ্ঠানের কোন মেয়ের যাতে বাল্যবিয়ে না হয় সেদিকে আমি খেয়াল রাখছি। এছাড়া বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে আমার প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। কারো যদি বাল্যবিয়ের আয়োজন হয় তাহলে তারা জানায় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি।