কাজী খলিলুর রহমান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় দু’দিনের ব্যবধানে বিষপানে আরেক স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই স্কুল ছাত্রীর নাম সুরাইয়া আক্তার (১৫)। সে আমুয়া বন্দর আমীর মোল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী এবং উপজেলার ছোনাউটা গ্রামের বাসিন্দা ও আমুয়া বাজারের চা দোকানী সিদ্দিক মোল্লার মেয়ে।

জানা যায়, গত ৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালে আমুয়া শহীদ রাজা ডিগ্রী কলেজের শহীদ মিনার চত্ত্বরে গিয়ে সে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। স্থানীয়া তাকে আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র (আমুয়া) ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার সুরাইয়ার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রতিবেশীরা জানান, পার্শ্ববর্তি দক্ষিণ মরিচবুনিয়া গ্রামের পান্না জোমাদ্দারের বখাটে ছেলে শফিক জোমাদ্দার (হুন্ডা রেন্ট-এ কার চালক) বিভিন্ন সময় ছাত্রী সুরাইয়াকে উত্যক্ত ও প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো।

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, হুন্ডা রেন্ট-এ কার চালক শফিকের সাথে সুরাইয়ার প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিলো, ঘটনার দিন সকালে প্রেমিক শফিকের বাড়িতে অন্য এক প্রেমিকা ওঠে, এ খবরে অভিমানে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সুরাইয়া।

আমুয়া আমির মোল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শামীম হোসেন জানান, সুরাইয়া মেধাবী হিসেবে মোটামুটি হলেও তার চলাফেরা ও আচারণ খুবই ভালো মেয়ে ছিলো। যে কারণে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকদের কাছে সে প্রিয় ছাত্রী ছিলো। সুরাইয়ার আত্মহত্যায় মত্যুর ঘটনাটি আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলছে।

কাঠালিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুরাদ আলী জানান, এ ঘটনায় বরিশালে ময়নাতদন্ত শেষে কোতয়ালী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

অপর দিকে বখাটের উত্যক্তে এক স্কুলছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে গত বুধবার ০৩ আগষ্ট সন্ধ্যায় উপজেলার উত্তর আউরা গ্রামের মোঃ নাসির হাওলাদারের মেয়ে নাসরিন আক্তার (১৩) ঘরের বারান্দায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

নাসরিন কাঠালিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। একই গ্রামের শাহজালাল আকনের বখাটে ছেলে সৈকত আকন স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে নাসরিনকে প্রায়ই বিভিন্নভাবে বিরক্ত করত।

নিহত নাসরিনের মা চম্পা বেগম জানান, আমার মেয়ে নাসরিন কাঠালিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণিতে পড়তো, স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে আমার মেয়েকে সৈকত প্রাইয় বাজে কথা বলে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করত। এ নিয়ে মেয়েটা সব সময় মানুষিকভাবে চিন্তিত থাকত।

বিকালে আমি আমার পিতার বাড়ী বড় কাঠালিয়া যাই, নাসরিন এ সময় ঘরে একা ছিলো। সন্ধ্যার দিকে বাড়ীতে এসে পিছনের বারান্দায় আড়ার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে নাসরিনকে ঝুলতে দেখতে পাই। আমার ডাক-চিৎকার শুনে বাড়ীর লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে।

কাঠালিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান জানান, ৮ম শ্রেণির পড়ুয়া নাসরিন আক্তার শান্তশিষ্ট ও নম্র-ভদ্র ছাত্রী ছিলো। আমাদের কাছে উত্যক্ত করার কোন ঘটনা সে কখনও জানায়নি বা অভিযোগ করেনি।কাঠালিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বর) নুরুল আলম মিলু জানান, সৈকত নাসরিনকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ডিস্টার্ব করত। ঘটনার দিন মেয়েটির মা চম্পা বেগম তার বাবার বাড়ী ছিলো। ঘর ফাঁকা পেয়ে সে আত্মহত্যা করে।কাঠালিয়া থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ থানায় নিয়ে আসে।