ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নানীর কোলে সদ্য জন্ম নেয়া শিশু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ১৩ বছরের শিশুটি কন্যা সন্তান প্রসব করেছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ২৫০ শষ্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে সে কন্যা সন্তান প্রসব করে।

ভিকটিম ও তার পরিবারের সদস্যরা জানায়, কসবা উপজেলার বাদৈর ইউনিয়নের বাদৈর গ্রামের ওই শিশু স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রী। গত বছরের ২৩অক্টোবর সন্ধ্যায় তাদের বাড়ির পাশের রুবেল মিয়ার (৩৫) মুদি মালের দোকানে মশার কয়েল কিনতে গেলে রুবেল মিয়া ও আগে থেকেই দোকানে উপস্থিত থাকা সাইদুল মিয়া (২০) ওই শিশুকে জোরপূর্বক ধরে দোকানের পেছনে নিয়ে তার মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে তারা দু’জন তাকে ধর্ষন করে। পরে ধর্ষনের ঘটনা কাউকে জানালে ওই শিশুকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় তারা। তাদের ভয়ে ওই শিশু পরিবারের সদস্যদের কাছে এই ঘটনা বলেনি।

এই ঘটনার ৬ মাস পর ওই শিশু অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে অসুস্থ হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যদের চাপে ওই শিশু ধর্ষণের ঘটনাটি তার মায়ের কাছে খুলে বলে। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল ওই শিশুকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ওই শিশুকে ২৩ সপ্তাহের অন্তঃস্বত্ত্বা বলে পরিবারের সদস্যদেরকে নিশ্চিত করেন।

ওইদিনই শিশুর পিতা বাদি হয়ে লম্পট রুবেল মিয়া ও সাইদুল মিয়াকে আসামী করে কসবা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রুবেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও সাইদুল পালিয়ে যায়।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনে ভিকটিম একটি কন্যা শিশু প্রসব।

শনিবার রাতে হাসপাতালে ভিকটিমের মা বলেন, জানোয়ারগুলো আমার মেয়ের জীবনটা তছনছ করে দিয়েছে। একজন এখনো পলাতক। তার গর্ভে নেয়া সন্তানের বাবা কে? সে চিন্তায় আমরা অস্থির।

ভিকটিম বলেন, আমি গরুর গোয়ালে দেয়ার জন্য কয়েল কিনতে দোকানে গিয়েছিলাম। অন্ধকার রাত ছিলো। তারা আমাকে মুখে গামছা বেঁধে খারাপ কাজ করেছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, গত ১০ আগষ্ট ওই শিশুকে আমাদের হাসপাতালের গাইনী বিভাগে ভর্তি হয়। গাইনী চিকিৎসক ডাঃ মারিয়া পারভিন তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কসবা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা মামলার একজন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছি। ওই শিশুর শারীরিক পরীক্ষা করিয়েছি। অপর আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, পুলিশ মামলার আসামী রুবেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত রুবেল ও জন্ম নেয়া শিশুর নমুনা নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। পলাতক অপর আসামিকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারের পর তারও ডিএনএ নমুনা নেয়া হবে। নমুনা নেয়ার পরই ওই নবজাতকের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।