খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : দেশে এখন ‘টিপ-কান্ড’ নিয়ে রীতিমত লঙ্কাকান্ড চলছে। একজনকে বরখাস্ত ও একজনকে ক্লোজ করা হয়েছে। সংসদ থেকে শুরু করে অফিসপাড়া, ফুটপাথ, চায়ের দোকান- অনেক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

দেশের এই টিপ-কান্ডের সমালোচনায় যুক্ত হয়েছেন ভারতে নির্বাসিত লেখিকা তাসলিমা নাসরিন। তাসলিমা নাসরিন তার ফেসবুক আইডিতে টিপ নিয়ে সমালোচনাকারীদের ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘টিপ টিপ টিপ। মেয়েরা কত রকমভাবে সাজতে পারে। বেচারা ছেলেদের সাজের বেশি কিছু নেই। নানা রকম অলঙ্কার, শাড়ি, মিনি স্কার্ট, হাই হিল, এমনকি টিপটাও পরতে পারে না!’ সেই পোস্টের সঙ্গে তাসলিমা নাসরিন তার নিজের টিপ লাগানো কয়েকটা ছবিও জুড়ে দিয়েছেন। যেখানে নানা রকমের শাড়িতে সেজেছেন তিনি। কপালে জ্বলজ্বল করছে নানা আকারের নানা প্রকারের টিপ!

গত শনিবার তেজগাঁও কলেজের শিক্ষিকা লতা সমাদ্দারকে এক পুলিশ অফিসার প্রশ্ন করেন, “টিপ পরছোস কেন?” অভিযোগ, লতা প্রতিবাদ জানালে তাঁকে কটূক্তি করতে থাকেন ওই অফিসার। গায়ের উপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে দেওয়ারও নাকি চেষ্টা করেন। এতে ওই শিক্ষিকা পায়ে চোট পান।

এখন এই টিপ-কাণ্ড নিয়ে সর্বত্রই প্রতিবাদের হাওয়া। সাধারণ থেকে অ-সাধারণ, প্রায় সবাই এই প্রতিবাদে সামিল।

সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন নির্বাসিত ও বিতর্কিত লেখিকা তাসলিমা নাসরিনও।

তাসলিমার কলমও কালি ছড়ালো তার মতো করেই। তিনি লিখেছেন, ‘মুসলমান পুরুষেরা তো কল্পনার ঈশ্বরের উদ্দেশে কল্পনার বেহেস্তের লোভে মাথা ঠুকতে ঠুকতে কালো দাগ বানিয়ে ফেলেছে কপালে। ওটিই তাদের কালো টিপ।’

এদিকে আরটিভি অনলাইনের একটি লেখা/নিউজ নিয়ে দারুণ চটেছেন তাসলিমা নাসরিন। তাকে ‘বিতর্কিত লেখিকা’ বলায় তাসলিমা নাসরিন তার প্রতিবাদ করেছেন। নিচে তাসলিমা নাসরিনের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

“**** আরটিভি অনলাইনের লেখাটি শুরু হয়েছে এভাবে — ‘বিতর্কিত লেখিকা তাসলিমা নাসরিন। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হন তিনি। এরপর অবস্থান নেন ভারতে। বর্তমানে তিনি থাকেন দিল্লিতে। সেখান থেকেও নিজেকে আলোচনা-সমালোচনায় জড়িয়ে রেখেছেন এই লেখিকা।’

আমার প্রশ্ন বিতর্কিত লেখিকা মানে কী? লেখক বা লেখিকার আগে কিছু বিশেষণ বসাতে এতই ইচ্ছে তা হলে লিখে দাও নারীবাদী লেখিকা, সমাজসচেতন লেখিকা, সাহসী লেখিকা, নির্বাসিত লেখিকা, প্রথাবিরোধী লেখিকা, মৌলবাদ-বিরোধী লেখিকা, সত্যবাদী লেখিকা, মানবতাবাদী লেখিকা– কিছু একটা। আমার কোনও লেখা নিয়ে লোকে বিতর্ক করতে পারে, সেক্ষেত্রে লেখাটিকে ‘বিতর্কিত লেখা’ বলা যেতে পারে, কিন্তু লেখক বা লেখিকাকে বিতর্কিত বলার মানে কী? গভীর এক ষড়যন্ত্র এর পেছনে দীর্ঘকাল ধরে কাজ করছে না কি?

লিখেছে, ২০০৪ সালে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হন তিনি। সম্পূর্ণ ভুল তথ্য। নির্বাসনের পরই নাকি অবস্থান নিই ভারতে। এটিও ভুল তথ্য।

শেষের লাইনটি এমন, ‘সেখান থেকেও নিজেকে আলোচনা-সমালোচনায় জড়িয়ে রেখেছেন এই লেখিকা।’

কতটুকু কমবখত আর ঘিলুহীন হলে এমন মন্তব্য করে লোকে। একজন লেখক লিখবে, এটাই তার কাজ। আর এ নিয়ে কটাক্ষ করা! আমি বিভিন্ন বিষয়ে আমার মত প্রকাশ করি, আমার মস্তিস্ক ভীষণভাবে অ্যাকটিভ। চিন্তাভাবনা, কল্পনা, গবেষণা, রচনা, ইত্যাদি প্রতিনিয়তই করছি। আমার লেখার আলোচনা-সমালোচনায় নিজেদের জড়িয়ে রাখে লোকেরা। জড়ানোদের মধ্যে এই অনলাইন পোর্টালের লোকেরাও আছে। তাদের দিকে আঙুল না তুলে আমার দিকে আঙুল তুলেছে কমবখত। যেন আমি লিখি, আমি মত প্রকাশ করি, এ আমার দোষ।”