খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আমরা দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। এ জন্য ফ্যাসিবাদী সরকারকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরাতে চাই। তাই ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতেই আমরা যে ধরনের আলোচনা করছি সেটা খুব শিগগিরই অগ্রসর হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের স্মরণে এক স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সংগঠনটির সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভা পরিচালনা করেন সহ-সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ বাবুল।

গয়েশ্বর বলেন, একটি দেশ ও জাতি যখন বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখন দেশের সমগ্র মানুষ ঐক্যবদ্ধ একটি প্রচেষ্টা চালায়। অতীতে যতবার জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে- তা বৃথা যায়নি। জাতীয় ঐক্যের প্রাপ্ত ফসল কার গোলায় গেছে সেটা হচ্ছে বড় কথা। তাই এবার জাতীয় ঐক্যের ফসল যাতে জনগণের গোলায় যায় সেই চিন্তা ভাবনা বিএনপি করছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে জাতীয় ঐক্যের বিষয় শুনেছেন। দলের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করতে চাই, একসঙ্গে পথ চলা, পাশাপাশি পথ চলা অথবা আলাদা আলাদা মঞ্চে আলাদা রাস্তায় আমরা একযোগে কাজ করতে চাই। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা জনগণের ইচ্ছায় সেটা হতে পারে যুগপৎ। সেটা হতে পারে কখনো কখনো আলাদাভাবে আন্দোলন। কখনো কখনো একসঙ্গে এক মঞ্চে আন্দোলন।

গয়েশ্বর চন্দ্র আরো বলেন, সরকার পতনের মাধ্যমে নির্বাচন আদায় করা হবে। এরপর আগামীর রাষ্ট্র মেরামতে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবাই মিলে সরকার হটিয়ে জবাবদিহিতামূলক সরকার গঠন করা হবে। রাষ্ট্রের অনেক সংস্কার করা প্রয়োজন। এজন্য সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন।

প্রশাসনের উদ্দেশে গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, যারা প্রশাসনে আছেন- এই সরকারের লুটপাটের অংশীদার অথবা কিছু না কিছু পেয়েছেন তাদের বলব চাকরি যাবে না। এখন থেকে আপনারা সরকারের অবৈধ কাজে যাবেন না। চাকরির স্বাভাবিক যে দায়িত্ব সেই কাজটা করেন। সরকার রক্ষা করার দায়িত্ব প্রশাসনের পোশাকধারী অপোশাকধারী যেই হোন না কেন, তাদের নয়। কাজেই এখনো সময় আছে জনগণের পক্ষে আসেন। আপনাদের চাকরি আপনারাই করবেন, আমরা চাকরি করতে যাব না। কিন্তু যে সরকারকে জনগণ চায় না, সেই সরকারকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে যেই হোক তাকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।’

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, এলডিপির একাংশের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রমুখ।