মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এক রাতের বৃষ্টিতে ডুবে গেছে রংপুর শহর থানায় হাটু সমান পানি। নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রায় সব ওয়ার্ডের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।কোথাও হাটু সমান আবার কোথাও কোমর সমান পানিতে নাকাল নগরবাসী।

স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী মধ্যরাত ১২টা থেকে সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত এই নয় ঘন্টায় জেলায় ২২২ মিলিলিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এমন বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরের অন্তত ৮ লাখ নাগরিক।

স্থানীয়রা বলছেন, সিটি করপোরেশনের উদ্যেগে যে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা তা একপ্রকার দুর্বল হওয়ায় তাদেরকে জলাবদ্ধতার মতো সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা, শালবন মিস্তিরি পাড়া, মহানগরীর মাহিগঞ্জ, মেডিকেল পাকার মাথা, রাধাবল্লভ, (মুলাটোল), জুম্মাপাড়া, মাস্টারপাড়া, কামারপাড়া, কামালকাছনা, গুঞ্জনমোড়, দর্শনা, জলকর, মুন্সিপাড়া, সেনপাড়া, লালবাগ, বাবাবুখা, বোতলা, খটখটিয়া, চিকলি, লক্ষণপাড়া, মডার্ণ মোড় সহ বিভিন্ন এলাকা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এবং মহল্লার বাড়ি-দোকানপাটে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাহত স্বাভাবিক জনজীবন।

সড়কগুলো পানিবন্দী থাকায় প্রধান প্রধান সড়ক এবং নগরীর সকল সড়কে যানবাহন সংকট এবং যারা যানবাহন নিয়ে বের হয়েছেন তাদের চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

কোথাও হাটু পানি, কোথাও কোমরপানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার ঘর-বাড়ি ও স্থাপনা। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। ক্ষতি হয়েছে অপূরনীয়। টানা ৯ ঘণ্টার ভারী বর্ষণে রংপুর মহানগরীসহ জেলার অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে রেলপথ ডুবে গেছে। প্রধান সড়কের পাশের পাড়া-মহল্লার সব অলিগলি পানিতে ডুবে গেছে।

নগরীর সেনপাড়ার মজিদ দেওয়ান জানান, সকাল থেকে তিনি ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না। বাড়ির ভেতরেও পানি ঢুকে আছে। রান্না বন্ধ।

নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের এক ভুক্তভোগী বাসিন্দা, মধ্যরাত থেকে বৃষ্টির কারণে সিটি করপোরেশনের প্রত্যেকটি ওয়ার্ড পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণেই এই দুরবস্থা।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ওই বৃষ্টিপাতে রংপুরের শত বছরের বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছিল। নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের ৯০ ভাগ এলাকা পানিতে ডুবে জনজীবনে বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল।

মাস্টারপাড়ার সেলিম হাসান জানান, তার বাড়িতে ঘর আছে মাত্র দুইটি। দু’টি ঘরই পানিতে তলিয়ে গেছে।তিনি বলেন, ১৯৮৮ সালের বন্যার পর এবারই আমার বাড়িতে পানি উঠেছে। পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে পড়ে গেছি। রান্না বন্ধ। রাস্তায় পানি থাকায় ঘরের বাইরেও বের হতে পারছি না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রংপুর শহরের বুক চিরে যাওয়া ১৬ কিলোমিটারের শ্যামা সুন্দরী খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় ভারি বৃষ্টি হলে পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করে। আজ দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি নগরীতে বৃষ্টি হচ্ছে।

রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা খোলাবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মধ্যরাত থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, শহরের চারপাশে প্রচুর পানি থাকায় নগরের পানি বের হতে পারছে না। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে পানি নেমে যাবে।

বসবাসরত নগরীর বিভিন্ন লোকদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা জানান, একটি দুর্যোগ অথচ আগে থেকে সিটি কর্পোরেশন অথবা আবহাওয়া অফিস কেউই কোন সতর্কবাণী বা পূর্বাভাস দেয়নি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান খোলাবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রাতে ২২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের কারণে রংপুর নগরের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী তিনদিন গুড়িগুড়ি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।