মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : দুই মাস পার হলেও স্থায়ী আবাসনে ঠাঁই হয়নি রংপুর মেডিকেলে পরে থাকা ঠিকানাহীন ইন্ডিয়ান এক যুবকের। শারীরিকভাবে অক্ষম এই যুবককে সুস্থ করতে দেয়া হচ্ছে চিকিৎসা। আপন ঠিকানায় না হলেও বর্তমানে যুবকের মৌলিক চাহিদা পূরণে আদালতের মাধ্যমে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া করছেন পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দিনের পর দিন হাসপাতালের বাড়ান্দায় অযত্নে অবহেলায় পরে থাকা এই ভিনদেশীর ঠাঁই হয়নি নির্দিষ্ট কোন স্থানে।

বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল পরিচালক ডা. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, দু’ মাসেরও বেশি সময় ধরে যুবকটি হাসপাতালে আছেন। রাস্তায় পরে থাকা এই যুবককে পথচারীরা পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কোন পরিচয় না পাওয়ায় সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে তার সব ধরনের সেবা দেয়া হচ্ছে।

যুবকটির কোমড় থেকে পা পর্যন্ত অবশ হওয়ায় চলাচল করতে পারে না। মেডিকেলে বোর্ড বসিয়ে তার চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ভর্তি করা হয়েছে নিউরো সার্জারী বিভাগে। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার নিউরো সাইন্স ল্যাবরেটরী হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পরামর্শ তার।

সমাজ সেবা অধিদপ্তরের অফিসার জয়নাল আবেদীন ও নূরে লাইলা জানিয়েছেন, অসচ্ছল, দুস্থ ও অসহায় মানুষদের চিকিৎসায় সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন তারা। কিন্তু এই ইন্ডিয়ান যুবকের কোন পরিচয় না পাওয়া এবং স্বজন না থাকায় তাকে নিয়ে বেকায়দায় পরতে হচ্ছে তাদের। হাসপাতাল কর্তপক্ষের নির্দেশেই দেয়া হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। নির্দেশনা পেলেই কোন সেচ্ছাসেবা বা সামাজিক সংগঠনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে হিন্দিভাষী আধ-মরা এই যুবকের কথা অষ্পষ্ট। চলতে না পারায় পুরো সময় শুয়েই কাটে তার। কথা বলার চেষ্টা করা হলেও এটুকু বোঝা গেছে ভূল করে তিনি এই দেশে এসেছেন। পেশা কৃষক। নিজের জন্মভূমিতে যেতে বড় ব্যাকুল। প্রসাব-পায়খানা বাথরুমে করতে না পারায় ওয়ার্ডের বিছানায় যায়গা হয়নি তার।

হাসপাতালের আয়া, বয়দের মানবিকতা তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী কুলসুম বেগম জানালেন, তার পয়-পরিস্কার, গোসলসহ সব কিছু করে দেন তিনিসহ অরো অনেকে। এই সহযোগিতা না করলে হয়তো এতাদিনে উৎকট গন্ধ ছড়িয়ে পরতো। মানুষ হয়ে একজন মানুষের সেবা করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন।

রংপুর মহানগর পুলিশের অপরাধ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, যুবকের বিষয়টি নিয়ে নীবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে তিনি ভারতীয় নাগরিক। কোন প্রদেশের বাসিন্দা, কিভাবে সীমান্ত পার হয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন নয়। আইনী প্রক্রিয়া শেষে নির্ধারিত কোন সংস্থার মাধ্যমে এ যুবককে স্থায়ীভাবে আবাসনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। দু’মাস আগে নীলফামারীর ডিমলা সীমান্ত দিয়ে এ দেশীয় ভূখন্ডে প্রবেশ করেন এই যুবক।