বিপুল মিয়া, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে শোভা পাচ্ছে কাউন ফসল। দিন বদলের ধারায় ধীরে ধীরে বিলুপ্ত পথে কাউন চাষ। এক সময় উপজেলার জুড়ে ব্যাপকভাবে কাউন চাষ হলেও বর্তমানে প্রত্যন্ত চরাঞ্চল ছাড়া এ ফসলটি আর চোখেই পড়ে না।

সহজ চাষ পদ্ধতি ও খুব কম খরচে এ ফসলটি ঘরে তোলা গেলেও উন্নত জাতের বিভিন্ন ফসলের হারিয়ে যেতে বসেছে কাউন ফসলটি। তাই আগ্রহ নেই চাষিদের মাঝে।

এক সময় মঙ্গাপিরিত চরাঞ্চলের মানুষজন কাউনের উপরই ভরসা করে ক্ষুদা নিবারণের একমাত্র উপায় ছিলো। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় কৃষি বিপ্লব ঘটায় কাউনের চাষ এখন বিলুপ্তির পথে। কাউন অত্যন্ত সুস্বাদু ফসল।

কাউন থেকে নানান রকম পিঠা, ক্ষীর, পায়েস, পোলাও, মলা ইত্যাদি মুখরোচক খাবার তৈরি হয়।
বাতাসে দুলছে হারিয়ে যাওয়া কাউন ফসল। চৈত্র মাসে শুকনো জমিতে চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিয়ে বীজ বপন করতে হয়।

কোনো প্রকার সেচ ছাড়াই জৈষ্ঠ্য মাসের শেষের দিকে এ ফসল ঘরে ওঠে। বিঘা-প্রতি ১০-১২ মণ পর্যন্ত ফলন হয়ে থাকে। ফসল ঘরে তোলার পর অবশিষ্ট খর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হতো।

অন্যান্য ফসলের মতো কাউন বিক্রয় করেও আর্থিকভাবে লাভবান হতো কৃষক।

ইন্দ্র নারায়ন এলাকার কৃষক জানান, এক সময় অন্যান্য ফসলের মতো ব্যাপকভাবে কাউন চাষ করতাম। কাউন বিক্রি করেই অনেকের সংসার চলতো। কাউন দিয়ে বিভিন্ন আকৃতির মলা তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে জীবন চালাত অনেকে।

দেশীয় জাতের এ ফসলটিকে আমাদের স্বার্থেই সংরক্ষণ করতে হবে। তা না হলে পরবর্তী প্রজন্ম জানবেই না কাউন কি। ঐতিহ্যের এ ফসলটি যেন একেবারেই হারিয়ে না যায় এজন্য আমাদের সকলকেই এগিয়ে আসা উচিৎ।

উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবুর রশিদ বলেন, এ বছরে‌ ফুলবাড়ী উপজেলার নদী তীরবর্তী চার ইউনিয়ন (নাওডাঙ্গা, শিমুলবাড়ি, বড়ভিটা, ভাঙ্গামোড়) মিলে প্রায় ৮০/৯০ বিঘা জমিতে কাউন চাষ হয়েছে। ফসল উত্তোলন করে ঘরেও তোলা শুরু হয়ে গেছে। ফলনও বেশ‌ সন্তোষজনক।

তবে বর্তমানে চরাঞ্চলের কৃষকরা অন্যান্য ফসলের প্রতি বেশি আগ্রহী। চরাঞ্চলের পতিত জমিগুলোতে ভূট্টা, কাউন, তরমুজ, মিষ্টিকুমড়াসহ উপযোগী ফসলসমূহ চাষাবাদের সুপরামর্শ দিচ্ছি। কৃষিবিভাগ সর্বদা কৃষকদের সাথেই থাকবে।